আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ, ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য

ঢাকা,২২ অক্টোবর- বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে প্রস্তুত হচ্ছে এই আধুনিক ক্রীড়াপল্লি।
আজ এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে আয়োজকদের পরিকল্পনা শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়।
আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে স্টেডিয়ামটির প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে স্টেডিয়ামটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের।
ইমরুল হাসান বলেন, ‘ইতিমধ্যে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট বসেছে, গ্যালারি তৈরি হয়ে গেছে, এখন পিচের কাজ চলছে।
আমরা আশা করছি ২০২৭ সালের মধ্যেই মাঠটার কাজ শেষ করতে পারব। কাজ শেষ হলে আমরা আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য বিসিবির সঙ্গে কথা বলবো।’
ফুটবলের জন্য তৈরি বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা ইতিমধ্যে এএফসি ও ফিফার স্বীকৃতি পেয়েছে। এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলও খেলেছে। অন্যদিকে, এবিজি স্পোর্টস সিটির দুটি ক্রিকেট মাঠে মালদ্বীপ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে ফুটবল ও ক্রিকেটের বাইরেও এই ক্রীড়াপল্লির পরিসর বাড়ছে। এখানে বাস্কেটবল, স্কোয়াশ, প্যাডেল টেনিস, ফুটসাল ও সাঁতারের মতো বিভিন্ন খেলার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। জুলকারনাইন বক্সিং ও স্কোয়াশে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবিজি স্পোর্টস সিটিকে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমাদের চিন্তাভাবনা হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে স্পোর্টসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রাখা এবং এটাকে একটা স্পোর্টস হাব হিসেবে তৈরি করা। যাতে এই মঞ্চ থেকে উঠে আসা ক্রীড়াবিদরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।’
ভবিষ্যতে এখানে শুটিংয়ের মতো খেলাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য এবিজি স্পোর্টস সিটিকে বেছে নিচ্ছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল), বাস্কেটবল ও স্কোয়াশ লিগের মতো প্রতিযোগিতাও এখানে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে, ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ফুটবল দল নিয়েও কথা বলেছেন ইমরুল হাসান। আসিয়ান কাপে ব্যর্থতার পর আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, লিগ শেষ হলেই জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে। পাশাপাশি দেশি কিংবা বিদেশি দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের ব্যবস্থাও করা হবে।
জাতীয় দলের ক্যাম্পে প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল আয়োজনের ক্ষেত্রে কিছু ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল বলেও স্বীকার করেছেন ইমরুল হাসান। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দলাদলি কিংবা ডাইনিংয়ে আলাদা বসার গুঞ্জন নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এরকম একটা রিপোর্ট আমাদের নজরে এসেছে। টিমের স্বার্থে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থাই খুব শিগগিরই নেব, সেটা যত কঠোরই হোক না কেন। টিমের শৃঙ্খলা সবার আগে।’
ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা বাড়ানো, বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ এবং জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এবিজি স্পোর্টস সিটিকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস এম/ ২২ অক্টোবর ২০২৬







