নারায়ণগঞ্জে হামলার ঘটনায় শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিলেন সম্রাট হোসেন

ঢাকা, ১৩ আগস্ট – জুলাই ও আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন আহত সম্রাট হোসেন।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এ জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি তার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দেন।
সম্রাট হোসেন জানান, গত দশ মাসে তার চোখে পাঁচটি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তার চোখে, মাথায় এবং সারা শরীরে প্রায় ৪০টির মতো স্প্লিন্টার রয়েছে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তার চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে আসবে না বরং সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
সম্রাট হোসেন পেশায় একজন মোটর শ্রমিক ছিলেন এবং ঢাকা চট্টগ্রাম সড়কে গার্মেন্টসের গাড়ি চালাতেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার কাজ না থাকায় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।
বিকেল ৩টার দিকে তৎকালীন এমপি শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আরও অনেককে তিনি অস্ত্র হাতে দেখেন। তারা আন্দোলনরত ছাত্র জনতার ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালালে সম্রাট হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তার সাথে দেলোয়ার হোসেন নামে অন্য এক সহযোদ্ধাও গুরুতর আহত হন।
সম্রাট হোসেনকে প্রথমে খানপুর হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, জুলাই ও আগস্টের আন্দোলন দমনে শামীম ওসমান স্বয়ং অস্ত্র হাতে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন এবং পুরো ঘটনার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ মামলায় ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
শামীম ওসমান ছাড়াও তার পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ মামলায় আসামি করা হয়েছে যারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এনএন/ ১৩ আগস্ট ২০২৬









