সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে নেই বাধা

ঢাকা, ১১ আগস্ট – রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এই মামলায় জামিন পাওয়ার ফলে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রেখেছিলেন চেম্বার আদালত। পরবর্তীতে বনানী থানার মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল। আজ সেই মামলাতেও তিনি জামিন পেলেন। উল্লেখ্য যে এ বি এম খায়রুল হক ইতিপূর্বে মোট আটটি মামলায় বিভিন্ন সময়ে জামিন লাভ করেছেন। গত ৩০ জুন যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। যদিও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল।
গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিন পাওয়ার পর সাবেক প্রধান বিচারপতিকে নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তখন এই আদেশ দিয়েছিলেন। এর আগে ১৬ মে ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন খোয়াইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে তৎকালীন সরকার প্রধানসহ অন্য আসামিদের নির্দেশে পুলিশ ও র্যাবসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অস্ত্রধারীরা গুলি চালায়। এতে খোয়াইব গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় গত বছরের ১৬ নভেম্বর নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে মোট নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
এনএন/ ১১ আগস্ট ২০২৬









