তনু হত্যা মামলায় বড় মোড়: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ!

ঢাকা, ০৬ আগস্ট – দীর্ঘ ৮ বছর পর সারাদেশকে নাড়া দেওয়া কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় এক নজিরবিহীন আইনি মোড় সামনে এলো। জামিনে কারামুক্ত হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের (৫২) জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। শুধু তা-ই নয়, তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে পুলিশকে তাকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই আদেশ জারি করেন। খবরটি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মামলাটির বিচারে আইনি লড়াই এখন তুঙ্গে। গত ২ আগস্ট বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামি হাফিজুর রহমানকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন এবং স্থায়ী জামিন কেন দেওয়া হবে না—তা নিয়ে রুল জারি করেন। সেই আদেশের বলে ৪ আগস্ট কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত পান তিনি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এই জামিন আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবার জরুরি ভিত্তিতে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করে। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চেম্বার আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে শুনানি করেন। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি আমলে নিয়ে জামিন স্থগিতের পাশাপাশি আসামি হাফিজুরকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের কড়া বার্তা দেন। আগামী রোববার (৯ আগস্ট) আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি ঝোপের মধ্য থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের পর তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সেনানিবাসের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘ দিন থমকে থাকায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। পরবর্তীতে তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসেই কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর, চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করে। সিআইডি ইতিমধ্যে তার ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।
সুশীল সমাজ ও আইনজীবীদের মতে, তদন্তের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আসামির জামিনে মুক্তি পাওয়া মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া ও আলামত সংরক্ষণে ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। চেম্বার আদালতের এই কঠোর অবস্থান বিচারপ্রার্থী পরিবার ও সাধারণ মানুষের মনে বিচার পাওয়ার আশা পুনরায় জাগিয়ে তুলেছে।
এখন সব নজর রবিবারের দিকে, যখন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে বিষয়টি চূড়ান্ত আদেশের জন্য উঠবে। ৮ বছর ধরে ঝুলে থাকা তনু হত্যার বিচার কি তবে অবশেষে একটি সুনির্দিষ্ট পরিণতির দিকে এগোচ্ছে? দেশবাসী এখন সেটিরই অপেক্ষায়।
এনএন/ ০৬ আগস্ট ২০২৬









