কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

বোগোতা, ১১ আগস্ট – কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩২ জন নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন ৫৭০ জন এবং এখনো কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। গত সোমবার স্থানীয় সময় এই শক্তিশালী কম্পনটি আঘাত হানে।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মতে, চলতি শতাব্দীতে দেশটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের তীব্রতায় পশ্চিম কলম্বিয়ার কালি, পেরেইরা, কিবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন শহর কেঁপে ওঠে। পার্শ্ববর্তী দেশ ইকুয়েডর ও পানামাতেও এই কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে যে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূগর্ভের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল। মূল কম্পন আঘাত হানার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় দেশটিতে অন্তত ২১টি পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে। কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং প্রায় ৩৮০টি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানে উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রাণপণে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
হোর্হে মোনকায়ো নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ট্যাক্সিচালক জানান যে, কম্পনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে চারদিকে শুধু ধুলার মেঘ দেখা যাচ্ছিল। তার মতে, এমন শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা তার জীবনে আগে কখনো হয়নি।
আরেক বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস ওসোরিও জানান, ভবন ধসে পড়ার শব্দ ছিল অনেকটা শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের মতো।
নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিশাল সংকটের মুখোমুখি হলেন। সরকার ইতিমধ্যে দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবন রক্ষা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের দ্রুত উদ্ধার করা।
এদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। স্বজনদের খুঁজে পেতে স্থানীয়রা ডিজিটাল ডেটাবেজে তথ্য জমা দিচ্ছেন। সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় এক হাজার চারশ মানুষের তথ্য সেখানে নথিভুক্ত হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিধি বিবেচনায় পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদোসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কলম্বিয়া মূলত প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এটি একটি ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। তবে ১৯৯৯ সালের পর দেশটিতে আর কোনো বড় মাত্রার ভূমিকম্প দেখা দেয়নি। সোমবারের এই দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়াও মেক্সিকো, চিলি, এল সালভাদর, ইসরায়েল ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনএন/ ১১ আগস্ট ২০২৬









