ব্রাজিলে জনমত জরিপে এগিয়ে লুলা, পিছিয়ে পড়ছেন ফ্লাভিও বলসোনারো

ব্রাসিলিয়া, ২৬ জুলাই – ব্রাজিলে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত নতুন এক জনমত জরিপে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্রাজিলের স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডাটাফোলহা কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সম্ভাব্য দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে লুলার ঝুলিতে ৪৮ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধীদলীয় সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো পাবেন ৪৩ শতাংশ ভোট।
গত জুন মাসে পরিচালিত জরিপে লুলার পক্ষে ৪৭ শতাংশ এবং ফ্লাভিওর পক্ষে ৪৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন ছিল। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে যে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ততই বাড়ছে। ব্রাজিলের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রথম ধাপের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে ব্যর্থ হলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
ডাটাফোলহার বিশ্লেষণে দেখা গেছে প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোটে প্রেসিডেন্ট লুলা ৪০ শতাংশ সমর্থন পেয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো ৩২ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে রোনালদো কায়াদো ৪ শতাংশ এবং রোমেউ জেমা ও রেনান সান্তোস উভয়েই ৩ শতাংশ করে ভোট পেতে পারেন। বিরোধী শিবিরের এই পিছিয়ে পড়ার নেপথ্যে রাজনৈতিক ও পারিবারিক কোন্দলকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো এবং তার সৎমা তথা সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল বলসোনারোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। গত জুন মাসে মিশেল অভিযোগ তুলেছিলেন যে দলীয় কার্যক্রমে তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে ফ্লাভিও তাকে অশ্রদ্ধা করেছেন।
যদিও সম্প্রতি ফ্লাভিও তার সৎমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তবে এই অভ্যন্তরীণ বিভেদ ডানপন্থী ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সম্প্রতি ব্রাজিলের ওপর মার্কিন বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই জরিপ পরিচালিত হয়।
অসাধু বাণিজ্যের অভিযোগে ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও লুলার প্রশাসন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত ২২ থেকে ২৩ জুলাই ব্রাজিলের ২ হাজার জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপটিতে ভুলের মাত্রা ধরা হয়েছে ২ শতাংশ।
এস এম/ ২৬ জুলাই ২০২৬









