মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি পারমাণবিক চুক্তিতে ইসরায়েলের উদ্বেগ, সরব বিরোধী পক্ষ

তেল আবিব, ২৩ জুলাই – যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত একটি পারমাণবিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলে তীব্র উদ্বেগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরবে পারমাণবিক রিয়্যাক্টর নির্মাণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তিটি বেসামরিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে করা হলেও ইসরায়েলি নেতাদের আশঙ্কা, এটি মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা উসকে দিতে পারে। চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। তবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নীরবতা পালন করছেন। সরকারের এই নীরবতাকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু করেছেন দেশটির বিরোধী দলের নেতারা। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এই চুক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হলে পুরো অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্রের এক অনিয়ন্ত্রিত দৌড় শুরু হবে। অন্যদিকে সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই বেসামরিক কর্মসূচি এক সময় পারমাণবিক অস্ত্রে রূপ নেবে।

তিনি ইসরায়েল সরকারকে মার্কিন কংগ্রেসে লবিংয়ের মাধ্যমে এই চুক্তি ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে বিবেচনা করা হয়, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে এটি কখনও স্বীকার করেনি।

রিয়াদের এই পারমাণবিক অগ্রগতিকে তারা নিজেদের একচ্ছত্র সামরিক আধিপত্যের জন্য একটি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন উভয় প্রশাসনের আমলেই এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তির কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। সমালোচকদের মতে, এই চুক্তি সৌদি আরবকে পারমাণবিক শক্তি অর্জনে সহজ পথ তৈরি করে দিতে পারে, যা অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ বদলে দেবে।

এস এম/ ২৩ জুলাই ২০২৬


Back to top button