মধ্যপ্রাচ্য

লোহিত সাগরে নতুন করে সংকটের শঙ্কা হুথিদের হামলার পরে

সানা, ২৩ জুলাই – পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরেও সামরিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। সৌদি আরবের ওপর নৌ অবরোধ ঘোষণার অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি।

তাদের এই পদক্ষেপের ফলে হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি বাব আল মানদাব প্রণালী ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিরা এনসেলিয়া ও লায়লা নামে দুটি সৌদি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা এনসেলিয়া ট্যাঙ্কারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামলার পরপরই জাহাজটির সামনের অংশে আগুন ধরে যায় এবং সেখান থেকে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। তবে দ্বিতীয় ট্যাঙ্কারটির বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার পর বাব আল মানদাব প্রণালীতে ঝুঁকি এড়াতে পাঁচটি তেলের ট্যাঙ্কার নিজেদের দিক পরিবর্তন করেছে। একাধিক আন্তর্জাতিক জাহাজ সুয়েজ খালের দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে, যার ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয় হবে।

এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানে টানা ১২ দিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, সমুদ্রসীমায় নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে দুর্বল করে দেওয়ার দাবি করা হলেও তেহরান এখনও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি মার্কিন হামলায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

ইরানও পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে। সংকট নিরসনে ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো বেসামরিক বা সরকারি অবকাঠামোয় হামলা চালায় তবে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো গুড়িয়ে দেওয়া হবে। উভয় পক্ষের এই অনড় অবস্থান এবং নৌপথ বন্ধের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে।

এস এম/ ২৩ জুলাই ২০২৬


Back to top button