মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র শনাক্তে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র, দাবি তেহরানের

তেহরান, ২৩ জুলাই – ইরানের সামরিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক ও তীব্র হামলা সত্ত্বেও সংঘাত শুরুর পর থেকে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাড়িয়ে চলেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুলফজল শেকারচির এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। শেকারচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রতিটি পর্যায়ে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের কার্যক্রম সচল রেখেছে।

এমনকি বিভিন্ন সময়ে সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকার কালেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন থামানো হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন করে মজুত গড়ে তোলার পাশাপাশি উৎপাদিত এসব সমরাস্ত্র প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইরানি এই মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো সত্ত্বেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের গোপন উৎপাদন স্থাপনাগুলোর হদিস পেতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের যে ধারণা ছিল, বাস্তবে তেহরান তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

তারা কার্যকরভাবে মার্কিন হামলা মোকাবিলা করে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। গত মে মাসে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এর একটি মূল্যায়নে জানানো হয়েছিল যে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল, তার প্রায় ৭০ শতাংশ এখনো অক্ষত রয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের তৈরি ড্রোন ও অস্ত্রগুলো তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করা সম্ভব। তবে এগুলো ধ্বংস বা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এস এম/ ২৩ জুলাই ২০২৬


Back to top button