জর্ডান থেকে বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহারের জোরালো দাবি বিশিষ্ট নাগরিকদের

আম্মান, ২২ জুলাই – ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে জর্ডানের ভূখণ্ড থেকে সব বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দেশটির বিশিষ্ট রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। জর্ডানের বুদ্ধিজীবী এবং আদিবাসী নেতাদের স্বাক্ষরিত একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতি দেশটিকে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
এতে জর্ডান বড় কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিবৃতিতে জর্ডান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি থেকে সরে আসার জোরালো আহ্বান জানানো হয়। এটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, দেশের নাগরিকদের অধিকার এবং সুশীল সমাজের প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই চুক্তি বাতিল বা সীমিত করা প্রয়োজন।
এতে করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্তগুলো জর্ডানের জনমত যাচাইয়ের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে জর্ডানের জাতীয় সম্পদ ও অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখার তাগিদ দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিসহ সব কৌশলগত স্থাপনা নিরপেক্ষ রাখা উচিত।
এই অঞ্চলের জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো সামরিক বা লজিস্টিক অপারেশনে জর্ডানের ভূখণ্ড ব্যবহার করা যাবে না। এর লক্ষ্য হলো জর্ডানকে যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, জর্ডান চলমান যুদ্ধের কোনো অংশীদার নয় এবং এর নেতিবাচক পরিণতি দেশটির ওপর বর্তানো উচিত নয়।
যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে তা জর্ডানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। জর্ডান সেনাবাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করে বলা হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পবিত্র স্থানগুলো রক্ষা করা এবং দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জর্ডান কর্তৃপক্ষকে কোনো সামরিক জোটে না জড়িয়ে নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব রক্ষার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এস এম/ ২২ জুলাই ২০২৬









