তিব্বতে চীনা নীতির প্রতিবাদে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ

ওয়াশিংটন, ১২ জুলাই – তিব্বতে চীনের দমনমূলক নীতির প্রতিবাদ এবং তিব্বতি কর্মী লোবগা রাংজেনের মৃত্যুর এক বছর পূর্তিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্টুডেন্টস ফর অ্যা ফ্রি তিব্বতের (এসএফটি) তিন সদস্য সদর দপ্তরের ফটকে নিজেদের শিকল দিয়ে বেঁধে এই অভিনব প্রতিবাদ জানান।
তিব্বতি সংবাদমাধ্যম ফায়ুলের বরাতে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) জানিয়েছে, গত বছর লোবগা রাংজেন জাতিসংঘ ভবনের সামনে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর এক বছর অতিবাহিত হলেও তিব্বতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন।
যদিও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক সে সময় ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছিলেন, তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি শুধু সমবেদনা জানানো যথেষ্ট নয়। বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে তিব্বতের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার এবং সেখানে স্বাধীন তদন্তকারীদের প্রবেশের দাবি জানান।
কর্মসূচি চলাকালে তেনজিন তসেতেন,
তসেলা জোকসাং এবং তেনজিন কুনচক নামে তিন বিক্ষোভকারীকে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে তাদের মুক্তি দেওয়া হলেও বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসএফটির ক্যাম্পেইন পরিচালক তসেলা জোকসাং জানান,
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল তিব্বতের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর চীনা দমননীতির প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তিনি দাবি করেন, চীনা শাসনের প্রতিবাদে এখন পর্যন্ত ১৭০ জনেরও বেশি তিব্বতি আত্মাহুতি দিয়েছেন। এছাড়া ১ জুলাই কার্যকর হওয়া চীনের এথনিক ইউনিটি অ্যান্ড প্রগ্রেস আইনের তীব্র সমালোচনা করেন আন্দোলনকারীরা।
তাদের অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে তিব্বতি শিশুদের বাধ্যতামূলকভাবে মান্দারিন ভাষার আবাসিক স্কুলে পাঠানো হচ্ছে এবং যাযাবর জনগোষ্ঠীর জীবনধারা বদলে দিয়ে তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।
এস এম/ ১২ জুলাই ২০২৬









