মধ্যরাতে কেঁপে উঠল চীন: সিচুয়ানে ৫.২৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

বেইজিং, ২৮ জুন – চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশে আঘাত হেনেছে একটি মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২৯। জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (জিএফজেড) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) মধ্যরাতে এই কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের গভীরতা কম হওয়ায় উৎপত্তিস্থলের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ এই কম্পনে সিচুয়ানের রাজধানী চেংডুসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মাঝরাতেই হাজার হাজার মানুষ গভীর ঘুম ভেঙে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় ও খোলা মাঠে এসে আশ্রয় নেন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জিএফজেডের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার ভূগর্ভে। সাধারণত কম গভীরতার ভূমিকম্পগুলো ভূপৃষ্ঠে বেশি তীব্রভাবে অনুভূত হয় এবং এতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও বেশি থাকে।
উদ্ধার অভিযান শুরু: ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ উপদ্রুত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যাচাই করতে বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।
তথ্যের বিলম্ব: আক্রান্ত অঞ্চলের একটি বড় অংশ প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি এলাকা হওয়ায়, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে এখনও কোনো বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভৌগোলিক ও টেকটোনিক প্লেটের অবস্থানের কারণে চীনের সিচুয়ান প্রদেশটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সোমবার মধ্যরাতের এই ঝাঁকুনি সিচুয়ানবাসীর মনে ২০০৮ সালের সেই বিধ্বংসী ভূমিকম্পের দুঃসহ স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে বছর এই প্রদেশে আঘাত হানা ৮ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে প্রায় ৯০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং ধূলিসাৎ হয়েছিল একের পর এক শহর। সেই আতঙ্কেই মূলত সোমবার রাতে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন বাসিন্দারা।
এনএন/ ২৮ জুন ২০২৬









