আইন-আদালত

পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

ঢাকা, ২১ মে – সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় প্রদান করেছে, তার বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৭ এপ্রিল এই সংক্রান্ত ১৮৫ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে হাইকোর্ট। রায়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে,

অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতেই ফিরিয়ে দিতে হবে। রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, এই রায়ের ফলে নিম্ন আদালতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হবে।

রায়ে হাইকোর্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন এবং ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে পুনর্বহাল করেছেন। ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী, বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তি এবং বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি এবং ছুটি মঞ্জুরিসহ সব ধরনের শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেও এই ধারাটি বহাল রাখা হয়েছিল, যা এখন হাইকোর্ট অসাংবিধানিক বলে বাতিল করেছে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক নির্দেশনা দিয়েছিল আদালত।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী এই রিট আবেদনটি দাখিল করেন। শুনানিতে আদালত ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালাকেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছেন।

হাইকোর্টের এই যুগান্তকারী রায়টি সংবিধানের অষ্টম ও ষোড়শ সংশোধনীর মামলার রায়ের আলোকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

এস এম/ ২১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language