পশু জবাইয়ের সময় গর্দান আলাদা করা নিয়ে ইসলামের বিধান ও সঠিক পদ্ধতি

ঢাকা, ২১ মে – ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কোরবানির পশু বা অন্য যেকোনো হালাল পশু জবাইয়ের সময় নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও শিষ্টাচার মেনে চলা জরুরি। অনেক সময় জবাইয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে গিয়ে পশুর গর্দান শরীর থেকে আলাদা করে ফেলা হয়।
শরিয়তের বিধান অনুসারে পশুর জবাইয়ের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে গর্দান সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা মাকরুহে তাহরীমী। তবে কোনো কারণে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে গর্দান আলাদা হয়ে যায় তবে তাতে কোনো গুনাহ হবে না এবং ওই পশুর মাংস খাওয়াও নিষিদ্ধ হবে না। মুরগি কিংবা গরুর মতো যেকোনো হালাল প্রাণীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য।
যেকোনো হালাল পশু জবাইয়ের জন্য প্রথম শর্ত হলো জবাইকারীকে অবশ্যই মুসলিম অথবা আহলে কিতাব তথা আসমানী কিতাবের অনুসারী হতে হবে। একইসঙ্গে জবাইকারীকে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও বুঝমান ব্যক্তি হতে হবে। জবাই করার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করা আবশ্যক।
পশুর শ্বাসনালি ও খাদ্যনালিসহ দুই পাশের শাহরগের অন্তত একটি কেটে রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে জবাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। জবাইয়ের জন্য অবশ্যই ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা উচিত যাতে পশুর কষ্ট কম হয়। যদি কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যান তবে জবাই শুদ্ধ বলে গণ্য হবে।
তবে যদি কেউ জেনে বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ না করে পশু জবাই করেন তবে সেই প্রাণীর মাংস খাওয়া জায়েজ হবে না। পশুর প্রতি অহেতুক নিষ্ঠুরতা পরিহার করে সঠিক পদ্ধতিতে জবাই সম্পন্ন করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।
এস এম/ ২১ মে ২০২৬









