অহংকার ত্যাগের শিক্ষা: ৫০০ বছরের ইবাদত বনাম আল্লাহর রহমত

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল – অহংকারকে ইসলামের অন্যতম ভয়াবহ পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়। নিজের সম্পদ, সৌন্দর্য কিংবা সামাজিক অবস্থান নিয়ে গর্ববোধ করা এবং অন্যদের ছোট মনে করাই হলো অহংকারের মূল বহিঃপ্রকাশ। প্রকৃতপক্ষে মানুষের অর্জিত সাফল্য বা সম্পদ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত মাত্র। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী যার নেয়ামত যত বেশি তার পরীক্ষার কাঠিন্যও তত বেশি। ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সাধকরা বরাবরই তাদের আমল নিয়ে গর্ব করার পরিবর্তে শেষ পরিণতির বিষয়ে উৎকণ্ঠিত থাকতেন।
ইবাদত করার সামর্থ্যকেও তারা আল্লাহর বিশেষ করুণা হিসেবে দেখতেন। সাহাবি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। হাদিস অনুযায়ী জিবরাইল (আ.) মহানবী (সা.) এর কাছে এমন এক ইবাদতকারীর গল্প শোনান যিনি একটি বিচ্ছিন্ন পাহাড়ে ৫০০ বছর নিরবচ্ছিন্ন ইবাদত করেছিলেন। তাঁর জন্য আল্লাহ অলৌকিকভাবে একটি মিষ্টি পানির ঝরনা ও একটি আনার গাছের ব্যবস্থা করেছিলেন। ওই আবেদ সেজদাহরত অবস্থায় মৃত্যুর প্রার্থনা করেছিলেন এবং আল্লাহ তা কবুল করেন।
তবে বিচার দিবসে যখন তাকে নিজের আমলের পরিবর্তে আল্লাহর রহমতে জান্নাতে যাওয়ার কথা বলা হবে তখন তিনি নিজের ৫০০ বছরের ইবাদতের বিনিময়ে জান্নাত চাইবেন। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা যখন তাঁর ইবাদতের সঙ্গে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের তুলনা করবেন তখন দেখা যাবে কেবল চোখের দৃষ্টির মূল্য পরিশোধেই তাঁর সমস্ত ইবাদত শেষ হয়ে গেছে। পরিশেষে ওই আবেদ অনুধাবন করতে পারবেন যে ইবাদতের অহংকার নয় বরং আল্লাহর অসীম করুণাই মানুষের মুক্তির একমাত্র উপায়।
এস এম/ ২৩ এপ্রিল ২০২৬









