জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগ

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল – বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড শীর্ষক চুক্তিটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এই ৩২ পৃষ্ঠার চুক্তির বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এতে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রাখা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য মার্কিন বোয়িং কোম্পানি থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে বাধ্য থাকবে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে উড়োজাহাজ কেনার পথ সংকুচিত হলো। এ ছাড়া জ্বালানি খাতে কাতার বা অন্য দেশ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি আমদানির পরিবর্তে আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি কেনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি খাতেও এই চুক্তির প্রভাব ব্যাপক। বাংলাদেশের প্রয়োজন না থাকলেও প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমাণ গম, সয়াবিন ও তুলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির শর্ত দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি মুসলিম প্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও শুল্ক কমানোর তালিকায় রাখা হয়েছে বিভিন্ন পদের শূকরের মাংস, যা দেশের বিদ্যমান আমদানি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সামরিক কেনাকাটার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে এখন থেকে মার্কিন প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সীমিত রাখার চেষ্টা করতে হবে। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও আনু মুহাম্মদসহ দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা এই চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

চুক্তির শর্তানুসারে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ভর্তুকির তথ্য প্রদানের ফলে কৃষি ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমাতে বাধ্য হবে সরকার। এ ছাড়া কাস্টমসের ডিজিটাল তথ্যে মার্কিন প্রবেশাধিকার এবং আইপি আইনের প্রয়োগ দেশীয় উৎপাদনকারীদের জন্য সংকট তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে এই চুক্তিতে মার্কিন স্বার্থের ব্যাপক প্রতিফলন থাকলেও বাংলাদেশের স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়েছে। তবে ৬০ দিনের নোটিশে এই চুক্তি বাতিলের সুযোগ থাকায় জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে এটি পূর্ণ পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।

এস এম/ ২৩ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language