ইসলাম

হিজরি ক্যালেন্ডারের পবিত্র জিলকদ মাসের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহ

ঢাকা, ২১ এপ্রিল – হিজরি ক্যালেন্ডারের একাদশ মাস জিলকদ ইসলামী শরিয়তে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে যে চারটি মাসকে আশহুরুল হুরুম বা সম্মানিত মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে জিলকদ তার অন্যতম। এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ এবং রক্তপাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মূলত শান্তি ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির মাস হিসেবে এটি মুমিনদের কাছে বিশেষ মর্যাদার। জিলকদ মাসের গুরুত্ব এর ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে এই মাসেই সংঘটিত হয়েছে কালজয়ী কিছু ঘটনা।

১ জিলকদ ঐতিহাসিক হুদাইবিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় যা ইসলাম প্রসারের পথকে সুগম করেছিল। ৮ জিলকদ হজের বিধান নাজিল হয় এবং ২৫ জিলকদ হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ঈসা (আ.) এর জন্ম বলে প্রচলিত রয়েছে। এছাড়া হিজরি পঞ্চম বর্ষে এই মাসেই খন্দকের যুদ্ধ এবং ষষ্ঠ বর্ষে বায়াতুর রিদওয়ান অনুষ্ঠিত হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবীদের নিয়ে তার প্রথম ওমরাহ পালন করেছিলেন হিজরি সপ্তম বর্ষের এই মাসেই।

পবিত্র হজের ঠিক আগের মাস হওয়ায় জিলকদকে হজের প্রস্তুতির মাস হিসেবেও গণ্য করা হয়। আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলমানদের জন্য হজ ফরজ হওয়ার ঘোষণা মূলত এই সময়কেই কেন্দ্র করে। কোরআনের সুরা বাকারার ২১৭ নম্বর আয়াতে এই পবিত্র মাসগুলোতে শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একে সন্ধি বা লড়াই বন্ধের মাসও বলা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা জিলকদ মাসের পবিত্রতা রক্ষায় অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকেন এবং নফল ইবাদতে সময় ব্যয় করেন। এই মাসে আইয়ামে বিজের রোজা রাখা এবং বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা বিশেষ সওয়াবের কাজ। মূলত আত্মশুদ্ধি এবং আসন্ন হজের জন্য নিজেকে তৈরি করাই এ মাসের প্রধান উদ্দেশ্য।

এস এম/ ২১ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language