আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের বড় জয়! কমনওয়েলথের শীর্ষ ‘এক্সকো’ কমিটিতে সদস্য নির্বাচিত

ঢাকা, ২১ মে – আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আরও একটি বড় প্রমাণ মিলল এবার। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রাষ্ট্রজোট কমনওয়েলথ বোর্ড অব গভর্নরসের অত্যন্ত প্রভাবশালী কার্যনির্বাহী কমিটির (এক্সকো) সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।
২০২৬ থেকে ২০২৮—এই দুই বছর মেয়াদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে ঢাকা। বুধবার (২০ মে) লন্ডনে অবস্থিত কমনওয়েলথ সচিবালয়ে আয়োজিত বোর্ড অব গভর্নরসের এক বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ সভায় এশিয়া-ইউরোপ অঞ্চল থেকে বাংলাদেশকে এই কমিটির সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।
কী এই ‘এক্সকো’ কমিটি? কেন এটি এতোটা গুরুত্বপূর্ণ?
সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই নির্বাচনের গুরুত্ব আসলে কোথায়? লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কমনওয়েলথের পুরো শাসন ও নীতি নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি থাকে এই কার্যনির্বাহী কমিটির হাতে।
কমিটির গঠন: এই শক্তিশালী কমিটি মাত্র ১৬ সদস্যবিশিষ্ট। এর মধ্যে ৮টি সদস্যপদ জোটের সর্বোচ্চ তহবিল বা অবদানকারী রাষ্ট্রগুলোর জন্য স্থায়ীভাবে নির্ধারিত থাকে। আর বাকি ৮টি সদস্যপদ বিশ্বের চারটি আঞ্চলিক গ্রুপ থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
মূল কাজ: এই কার্যনির্বাহী কমিটি মূলত কমনওয়েলথ সচিবালয়ের যাবতীয় অর্থ, প্রশাসন ও জনবলসংক্রান্ত (এইচআর) বিষয়গুলো সরাসরি তদারকি করে থাকে।
নীতি নির্ধারণ: এটি বোর্ড অব গভর্নরসের জন্য কমনওয়েলথের বিভিন্ন নীতিগত সুপারিশ ও বাজেট প্রণয়ন করে। পাশাপাশি জোটের নতুন ও স্বীকৃত সংস্থাগুলোর (এওএস) সদস্যপদ যাচাই-বাছাইয়ের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজও এই কমিটির মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
লন্ডনের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় বাংলাদেশের পক্ষে সফলভাবে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং দেশের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালান লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নজরুল ইসলাম।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কমনওয়েলথের মতো একটি বড় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে এশিয়া-ইউরোপ অঞ্চলের দেশগুলোর ভোটে বাংলাদেশের এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে জোটের যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বাজেট বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন থেকে সরাসরি নিজেদের মতামত ও প্রভাব খাটাতে পারবে, যা বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
এনএন/ ২১ মে ২০২৬









