চীন সফরে পুতিন: শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

বেইজিং, ১৯ মে – রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের মাত্র চার দিন পর পুতিন এই সফরে এলেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেইজিং বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
এটি পুতিনের ২৫তম চীন সফর। পুতিনের এই সফর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের শীর্ষ এই দুই নেতা এ পর্যন্ত ৪০ বারের বেশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের তুলনায় চীন ও রাশিয়ার এই নৈকট্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং মনে করেন, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের দুই প্রভাবশালী নেতার আতিথ্য গ্রহণ বৈশ্বিক রাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসকে তুলে ধরছে। বেইজিং সম্ভবত ওয়াশিংটনকে এই বার্তা দিতে চাইছে যে, তাদের বিকল্প ও শক্তিশালী অংশীদার রয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই সফর রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার অবস্থান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি যখন সংকটের মুখে, তখন চীনের সাথে এই অংশীদারিত্ব ক্রেমলিনের জন্য বড় অবলম্বন।
সফরের আগে এক ভিডিও বার্তায় পুতিন উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ডলারের পরিবর্তে রুবল ও ইউয়ানে লেনদেন এবং ভিসামুক্ত যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শি ও পুতিনের এই কৌশলগত নির্দেশনার ফলে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
এনএন/ ১৯ মে ২০২৬









