মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে ইরানের পাল্টা আঘাতের কঠোর প্রস্তুতি

তেহরান, ১৯ মে – যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দিলেও পরবর্তীতে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলায় সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রয়েছে।

তবে ইরান সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দেশটির কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পুনরায় হামলা হলে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে সংযম দেখালেও আসন্ন যুদ্ধ হতে পারে অত্যন্ত তীব্র।

তেহরান ধারণা করছে যে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা হতে পারে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় প্রতিদিন শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের তেলক্ষেত্র এবং বন্দরগুলো ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি ইরানের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আমিরাত মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে ইরান বিরোধী কার্যক্রমে সহায়তা করছে।

বিশ্লেষক মেহদি খারাতিয়ান এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, প্রয়োজনে আবুধাবি দখলের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি যুক্তরাষ্ট্রকে বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখছে। এছাড়া ইরান বাব আল মান্দেব এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই রুট দিয়ে সম্পন্ন হয়। তেহরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলো অবরুদ্ধ করতে পারে, তবে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দ্বিমুখী সংকটের সৃষ্টি করবে।

তবে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সক্ষমতা এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর এই কৌশলের সাফল্য নির্ভর করবে।

এনএন/ ১৯ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language