হরমুজ প্রণালীতে বেড়েছে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল

তেহরান, ১৯ মে – যুদ্ধকালীন সময়ের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে গত সপ্তাহে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সামুদ্রিক নজরদারি প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত এই কৌশলগত পথ দিয়ে মোট ৫৫টি জাহাজ চলাচল করেছে।
এর আগের সপ্তাহে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯টি, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সর্বনিম্ন সাপ্তাহিক রেকর্ড ছিল। ওই হামলার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়,
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বর্তমানে অধিক সংখ্যক জাহাজকে প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি প্রদান করছে। এর আগে জানানো হয়েছিল যে ৩০টির বেশি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। চলাচল বৃদ্ধি পেলেও গত সপ্তাহের এই সংখ্যা যুদ্ধকালীন গড় হিসাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ক্লেপলারের তথ্য বলছে,
১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬৬৩টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যার গড় হিসাব প্রতি সপ্তাহে ৫৫টি। গত সপ্তাহে চলাচল করা ট্যাংকারগুলোর প্রায় অর্ধেকই ছিল তরল পণ্যবাহী। এর মধ্যে তিনটি ছিল অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ, যেগুলোর গন্তব্য ছিল চীন, ওমান ও জাপান।
এছাড়া আরও ১৫টি শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ এবং ১৬টি এলপিজি ট্যাংকার ওই সময়ে প্রণালী পার হয়েছে। কাতারের গ্যাস বহনকারী একটি এলএনজি ট্যাংকার ১২ মে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে এই পথ ব্যবহার করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এ নিয়ে মাত্র আটটি এলএনজি ট্যাংকার এই পথে চলাচল করল।
বিশ্বব্যাপী মোট তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, এই নৌপথের পরিস্থিতি আর আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। সোমবার তেহরান এই প্রণালী তদারকির জন্য একটি নতুন সংস্থা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে এবং এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায়ের বিষয়টিও সামনে এনেছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,
ধীরগতির পর পুনরায় চীনা জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে চীনের মালিকানাধীন বা পতাকাবাহী তিনটি এবং হংকংয়ের দুটি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে চীন ও ভারতের নাম উঠে এসেছে।
এছাড়া ব্রাজিল, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করা গেলেও পশ্চিমা দেশগুলোর গন্তব্যে যাওয়া জাহাজের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশ কম দেখা যাচ্ছে।
এস এম/ ১৯ মে ২০২৬









