পচা কলা আর নষ্ট বনরুটি দিলেই অ্যাকশন! স্কুলের ‘মিড ডে মিল’ নিয়ে কড়া বার্তা সরকারের

ঢাকা, ১৫ মে – দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান ফিডিং কর্মসূচি বা মিড-ডে মিলের খাবার বিতরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং খাবারের মান নিশ্চিত করতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কোনো প্রকার অনিয়ম বা গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা বনরুটি, নষ্ট ডিম এবং নিম্নমানের ও পচা কলা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে একদিকে যেমন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। এই প্রেক্ষিতেই মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
খাবার গ্রহণে যে বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে:
উপসচিব মরিয়ম বেগমের সই করা নির্দেশনায় শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের বিশেষ কিছু বিষয় যাচাই করতে বলা হয়েছে:
- বনরুটি: রুটি অবশ্যই তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত হতে হবে। প্যাকেজিং ছেঁড়া থাকলে বা ফাঙ্গাস ও দুর্গন্ধ থাকলে তা গ্রহণ করা যাবে না।
- ডিম: ডিম ফাটা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া চলবে না। পিচ্ছিলতা বা দৃশ্যমান কোনো দূষণ থাকলে তা বাতিল করতে হবে।
- কলা: কলা হতে হবে দাগমুক্ত ও পোকামুক্ত। অতিরিক্ত পাকা বা পচা কলা কোনোভাবেই বিতরণ করা যাবে না।
- দুধ ও বিস্কুট: ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুটের ক্ষেত্রে প্যাকেটজাত হওয়ার তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ করা যাবে না। যদি কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খাবার দেয়, তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ে খাদ্য সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই কড়া নির্দেশনার ফলে মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ফিরবে এবং শিক্ষার্থীরা মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনএন/ ১৫ মে ২০২৬









