বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

কেন বাণিজ্যিক বিমান অ্যান্টার্কটিকার ওপর দিয়ে ওড়ে না? জানুন নেপথ্যের কারণ

ওয়াশিংটন, ৭ মে – বিশ্বের মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘ পাল্লার ফ্লাইটগুলো প্রায়ই উত্তর মেরুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। উত্তর আমেরিকা থেকে এশিয়া বা ইউরোপে যাতায়াতের সময় বিমানগুলো গ্রিনল্যান্ড বা উত্তর মহাসাগরের আকাশপথ ব্যবহার করে। কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দক্ষিণ মেরু বা অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের ওপর দিয়ে যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের দৃশ্য প্রায় বিরল।

মূলত ভৌগোলিক অবস্থান, বৈশ্বিক চাহিদা এবং নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো এই পার্থক্যের প্রধান কারণ। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সাধারণত মানচিত্রের সরল রেখা অনুসরণ না করে গ্রেট সার্কেল রুট বেছে নেওয়া হয়। উত্তর গোলার্ধের প্রধান শহরগুলোর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নিউইয়র্ক থেকে হংকং কিংবা লন্ডন থেকে টোকিও যাওয়ার সংক্ষিপ্ত পথটি উত্তর মেরুর ওপর দিয়ে যায়। এতে দূরত্ব ও জ্বালানি সাশ্রয় হয় যা এয়ারলাইনগুলোর জন্য লাভজনক। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে সিডনি, জোহানেসবার্গ বা সান্তিয়াগোর মতো বড় শহরগুলোর অবস্থান উত্তর গোলার্ধের মতো অতটা ঘনবদ্ধ নয়।

ফলে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ সরাসরি অতিক্রম করার প্রয়োজনীয়তা খুব একটা দেখা দেয় না। জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকেও অ্যান্টার্কটিকা অনেকটা পিছিয়ে। সেখানে কোনো স্থায়ী জনবসতি বা বাণিজ্যিক কেন্দ্র না থাকায় কোনো বড় বিমানবন্দর গড়ে ওঠেনি। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বিমানটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিকটস্থ বিমানবন্দরে নামানোর সক্ষমতা থাকতে হয়।

উত্তর মেরু অঞ্চলে আলাস্কা, কানাডা কিংবা নরওয়ের বেশ কিছু আধুনিক বিমানবন্দর থাকলেও অ্যান্টার্কটিকায় এমন কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা নেই। এছাড়া সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া এবং হিমাঙ্কের নিচে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রা বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৭৯ সালে এয়ার নিউজিল্যান্ডের একটি পর্যটন বিমান দুর্ঘটনার পর এই অঞ্চলে বিমান চলাচলের ঝুঁকি আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে। বর্তমানে কিছু এয়ারলাইন উপকূলীয় অঞ্চলের কাছ দিয়ে উড়লেও অবকাঠামোগত অভাব এবং চরম আবহাওয়ার কারণে অ্যান্টার্কটিকা এখনো বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য একটি দুর্গম অঞ্চল হিসেবেই রয়ে গেছে।

এস এম/ ৭ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language