বলিউড

সন্তানদের ফিরে পেতে মরিয়া সেলিনা জেটলি, অস্ট্রিয়ায় আইনি লড়াই

মুম্বাই, ৭ মে – বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি বর্তমানে এক চরম ব্যক্তিগত ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি অস্ট্রিয়ায় নিজের অকালপ্রয়াত ছেলে শামশেরের কবর পরিষ্কার করার একটি অত্যন্ত আবেগঘন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি। এই ভিডিওর মাধ্যমে তিনি নিজের বর্তমান মানসিক যন্ত্রণা ও স্বামী পিটার হাগের সঙ্গে চলমান আইনি লড়াইয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন।

বর্তমানে সেলিনা তার স্বামী পিটার হাগের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানদের অধিকার নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। অভিনেত্রীর অভিযোগ যে তাকে তার জীবিত তিন সন্তানের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি এক দীর্ঘ পোস্টে জানিয়েছেন যে গত কয়েক সপ্তাহ ছিল তার জীবনের সবথেকে কঠিন সময়। বিচ্ছেদ সংক্রান্ত শুনানির জন্য তিনি অস্ট্রিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে আদালত সন্তানদের ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিলেও তার স্বামী তাদের কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে ফেলেছেন।

ফলে সন্তানদের দেখা না পেয়ে একমাত্র মৃত সন্তানের কবরের কাছে গিয়েই তাকে সান্ত্বনা খুঁজতে হয়েছে। সেলিনা আক্ষেপ করে বলেন যে একজন মা হিসেবে তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য নিজের দেশ এবং ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে দুবাই ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে বারবার স্থানান্তরিত হয়েছেন। ২০১০ সালে অস্ট্রিয়ান ব্যবসায়ী পিটার হাগের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে তিনি স্বামীর ক্যারিয়ারকে সমর্থন করতে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু এখন বিচ্ছেদের পর্যায়ে এসে তার প্রাক বৈবাহিক সম্পদ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তাকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। আদালতের পক্ষ থেকে যৌথ অভিভাবকত্বের আদেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে তিন সন্তানের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সেলিনার দাবি যে সন্তানদের তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। সেলিনা আরও জানান যে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তার স্বামী অত্যন্ত কৌশলে তাকে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ দেন।

বর্তমানে অস্ট্রিয়ার পারিবারিক আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই অভিনেত্রী। উল্লেখ্য যে সেলিনা ও পিটারের দুই জোড়া যমজ সন্তান রয়েছে যার মধ্যে ২০১৭ সালে শামশের হৃদরোগের কারণে মারা যায়। এখন নিজের বাকি তিন সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য বিশ্ববাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এস এম/ ৭ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language