চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’, সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান

ঢাকা, ৭ মে – দেশব্যাপী চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন সারাদেশে তালিকা ধরে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। এর ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সংখ্যক অপরাধীকে গ্রেফতারের পাশাপাশি চাঁদাবাজদের শক্তিশালী নেটওয়ার্কগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ, র্যাব এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে এই অভিযানে মাঠে নেমেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলা পর্যায়ে চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান চলবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক পাঁচ দিনের অভিযানে মোট ৫৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ১৭৩ জন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৩৫ জন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ চাঁদাবাজ এবং তালিকার বাইরে রয়েছেন আরও ৪৮ জন। এছাড়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ছিনতাই এবং ডাকাতির অপরাধে আরও ৬৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার এ প্রসঙ্গে জানান, অপরাধী বা চাঁদাবাজদের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের তদবির বা সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। পরিচয় নির্বিশেষে তালিকা অনুযায়ী অভিযান পরিচালিত হবে। এমনকি যদি কেউ কোনো চাঁদাবাজকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তাকেও অপরাধী চক্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে দেশে প্রায় ৬৫০ জন ‘চাঁদাবাজ গডফাদার’ এর নাম উঠে এসেছে। যাদের অনেকের রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ৪ হাজার চাঁদাবাজের একটি প্রাথমিক তালিকা ধরে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বড় ধরণের চাঁদাবাজি নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে। এখানকার দোকানপাট ও ফুটপাত থেকে দৈনিক বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এই নেটওয়ার্কগুলো ভাঙতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। সামগ্রিকভাবে এটি কেবল সাময়িক কোনো অভিযান নয় বরং এটি একটি ধারাবাহিক ও কাঠামোগত দমন প্রক্রিয়া বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এস এম/ ৭ মে ২০২৬









