মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সংকটে দক্ষিণ কোরীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পে অনিশ্চয়তা

সিওল, ২৭ এপ্রিল – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বাণিজ্যিক জাহাজের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হ্যানওয়া ওশান। প্রতিষ্ঠানটির মতে, যুদ্ধের কারণে বিশেষ করে অতি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের চাহিদা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জাহাজের ভাড়ার হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে।
এ ছাড়া যুদ্ধজনিত কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি ও ধীরগতির আশঙ্কা বাড়ছে। এর ফলে কন্টেইনারবাহী জাহাজের চাহিদাও কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ট্যাঙ্কার কোম্পানিগুলোর একটি বাণিজ্যিক সংগঠন জানিয়েছে, বর্তমানে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালীতে ১০৫টিরও বেশি ট্যাঙ্কারে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন নাবিক আটকা পড়ে আছেন। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
যদিও বর্তমানে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী নৌযানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর একাধিক জাহাজ আটকের পাশাপাশি অনেক জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এস এম/ ২৭ এপ্রিল ২০২৬









