যুক্তরাজ্যে ২০০৯ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আজীবন নিষিদ্ধ হচ্ছে সিগারেট কেনা

লন্ডন, ২৭ এপ্রিল – যুক্তরাজ্যে নতুন প্রজন্মের জন্য আজীবনের জন্য সিগারেট কেনা নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি কঠোর আইন পাসের প্রক্রিয়া চলছে। প্রস্তাবিত টোবাকো অ্যান্ড ভেপস বিল অনুযায়ী ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী কোনো নাগরিক দেশটির সীমানায় বৈধভাবে আর কখনোই সিগারেট কিনতে পারবেন না। পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের অনুমোদন এবং রাজকীয় সম্মতি মিললেই এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ২০২৪ সালে এই বিলটি প্রথম উত্থাপন করেন।
তার লক্ষ্য ছিল প্রতি বছর ধূমপানের ন্যূনতম বয়স এক বছর করে বাড়ানো যাতে বর্তমানের কিশোর সমাজ আজীবন তামাকের কুফল থেকে দূরে থাকে। বর্তমান লেবার সরকারও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল যে ২০৩০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডকে ধূমপানমুক্ত করা হবে। গত ৩৫ বছরে দেশটিতে ধূমপানের হার প্রায় অর্ধেক কমেছে। মূলত ২০০৭ সালে জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ এবং ২০১৬ সালে সাধারণ মোড়ক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এই হার কমাতে সহায়ক হয়েছে। তবে এই যুগান্তকারী আইনটি বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস এই পদক্ষেপকে রাষ্ট্রের অহেতুক হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে এটি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় আঘাত হানে। আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও একে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছেন। কিছু বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন এমন কড়াকড়িতে অবৈধ কালোবাজারি চক্র সক্রিয় হতে পারে এবং সরকারি রাজস্ব আয়ে টান পড়তে পারে। এর আগে নিউজিল্যান্ডে অনুরূপ আইন পাস হলেও পরবর্তী সরকার তা বাতিল করে দেয়।
তবে মালদ্বীপ ২০২৫ সাল থেকে ২০০৭ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য তামাকজাত পণ্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। নতুন এই ব্রিটিশ আইনে ই-সিগারেট বা ভেপিংয়ের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ধূমপান নির্মূলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
এস এম/ ২৭ এপ্রিল ২০২৬









