দেশের বড় কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক সংকট ও ড. ইউনূসের অর্থনৈতিক নীতি

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল – বাংলাদেশের বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত বর্তমানে বেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলে বড় কোম্পানিগুলো অস্বাভাবিক চাপের মুখে রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষক এই সিদ্ধান্তগুলোকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন যার ফলে বহু বছরের লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন লোকসানের কবলে পড়েছে। প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল, বাটা, সিঙ্গার এবং ইউনিলিভারের মতো বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে আর্থিক সংকটে পড়ায় দেশের ব্যবসা খাতে অস্থিরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশের উপরে নেওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়েছে। সিঙ্গার বাংলাদেশ তাদের লোকসানের প্রধান কারণ হিসেবে এই উচ্চ সুদহারকে দায়ী করেছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং কাঁচামাল আমদানিতে বাড়তি খরচ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বাটা সুজ কোম্পানি জানিয়েছে যে ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে তারা প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে। অন্যদিকে ভোগ্যপণ্য খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের বিক্রি ৮ শতাংশ এবং মুনাফা ১২ শতাংশ কমে গেছে। তিন দশক ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা করার পর প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল এদেশ থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জ্বালানি খাতে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং উন্নয়ন প্রকল্প কমে যাওয়ায় নির্মাণ সামগ্রীর বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন কিছু পদক্ষেপ রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করলেও সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতিগত কারণে ব্যবসায়িক খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
এস এম/ ২৬ এপ্রিল ২০২৬









