রাশিয়ার তুয়াপসে বন্দরে ফের ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা, তেল শোধনাগারে আগুন

মস্কো, ১ মে – ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী তুয়াপসে বন্দরে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে পরিচালিত এই হামলার মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো বন্দরটিকে লক্ষ্যবস্তু করল কিয়েভ। এবারের হামলায় সামুদ্রিক টার্মিনালের পাশাপাশি রোসনেফ্ট পরিচালিত একটি তেল শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্রাসনোদার অঞ্চলের জরুরি সহায়তা কেন্দ্র জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে শতাধিক কর্মী কাজ করছেন। তবে এ বিষয়ে আঞ্চলিক গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। ধারাবাহিক এই হামলার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষাক্ত বেনজিনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জরুরি সতর্কতা জারি করে জনসমাগম বন্ধ রেখেছে এবং বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা রস্পোট্রেবনাদজর বাসিন্দাদের বাইরে কম সময় কাটাতে এবং জানালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বেনজিন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিউইয়র্কভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিআই জানিয়েছে, তেল শোধনাগারটিতে আগুনের শিখা দেখা গেছে এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে। এর আগে মঙ্গলবার একই এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। উপকূলীয় পানিতে তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়ায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
চারদিন চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। শিল্প সূত্রের খবর অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিলের হামলার পর থেকেই এই শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ১ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সব ধরনের জনসমাবেশ বাতিল করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ১৪১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের এই ধারাবাহিক হামলা যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রয়টার্স ও আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব হামলায় রাশিয়ার তেল প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে এবং যুদ্ধের অর্থায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাশিয়া একে জ্বালানি স্থিতিশীলতা নষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।
এস এম/ ১ মে ২০২৬









