ইউরোপ

ইউক্রেন যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটের বিপ্লব: পাল্টে যাচ্ছে সমরাস্ত্রের ধারণা

কিয়েভ, ১ মে – ইউক্রেন যুদ্ধ আধুনিক যুদ্ধকৌশলে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে এই রণক্ষেত্রে রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু সহায়ক ভূমিকা পালন করছে না, বরং সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন মানবিক ঝুঁকি কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে নানা নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি ডেভড্রয়েড একটি ভিডিও প্রকাশ করে যাতে দেখা যায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি এলাকায় রুশ সেনারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত একটি স্থল রোবটের সামনে আত্মসমর্পণ করছে। দৃশ্যটি কাল্পনিক কোনো গেমের মতো মনে হলেও এটি বর্তমান ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তব চিত্র।

গত এপ্রিল মাসে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান যে, এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ মানববিহীন স্থল রোবট ও ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের অবস্থান দখল করা হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন মাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী এসব রোবটের মাধ্যমে ২২ হাজারেরও বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে। আগে রোবটগুলো কেবল বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও নজরদারিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন গোলাবারুদ, খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে এগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাদের উদ্ধারেও রোবট অংশ নিচ্ছে।

বেশ কিছু ব্রিগেডের তথ্য অনুযায়ী, তাদের রসদ সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশ এখন সৈন্যদের বদলে রোবটের মাধ্যমেই সম্পন্ন হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি যুদ্ধের দীর্ঘ বিবর্তনের এক নতুন অধ্যায়। ২০০০-এর দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলার মাধ্যমে দূরনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের সূচনা হলেও বর্তমান এআই প্রযুক্তি লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং আক্রমণের অগ্রাধিকার নির্ধারণে সরাসরি সহায়তা করছে।

তবে যুদ্ধের ময়দানে মেশিনের হাতে কতটা ক্ষমতা দেওয়া উচিত তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনে মানুষের মাধ্যমে রোবট নিয়ন্ত্রিত হলেও ভবিষ্যতে কিলার রোবট ব্যবহারের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যথাযথ নিয়ন্ত্রণহীন এআই যুদ্ধকে আরও দ্রুত এবং ভয়াবহ করে তুলতে পারে। মূলত ইউক্রেন এখন আধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তির এক বৃহৎ পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। ফলে মানবিকতা রক্ষায় এআই চালিত অস্ত্রের ব্যবহারে আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরির দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

এস এম/ ১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language