মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ব্যাহত সার সরবরাহ, বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

তেহরান, ১ মে – ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সার ও এর কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইয়ারা ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী সভেইন তোরে হোলসেথার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, এই সংকটের ফলে বিশ্বব্যাপী কয়েকশ কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো এই পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোলসেথার বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক সার উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

এই সংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে একটি অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সারের দাম বৃদ্ধির এই লড়াইয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাধারণ মানুষই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে বাধ্য হবে। বর্তমানে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্বে প্রায় পাঁচ লাখ টন নাইট্রোজেন সারের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। নাইট্রোজেন সারের এই ঘাটতির ফলে ফসলের ফলন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সারের বাজার বৈশ্বিক হওয়ায় এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হলেও এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোই সবচেয়ে দ্রুত সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি সংলগ্ন দেশগুলোতে যেখানে আগে থেকেই সারের অভাব রয়েছে, সেখানে এই সংকটের কারণে ফলন নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেতে পারে। সিঙ্গাপুরের খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পল টেং মনে করেন, অনেক দেশের কাছে হয়তো বর্তমান মৌসুমের জন্য পর্যাপ্ত মজুদ আছে কিন্তু এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে সামনের মাসগুলোতে চালের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইউরিয়া, পটাশ ও ফসফেট সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। সংঘাত শুরুর পর থেকে সারের দাম এরই মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে খাবারের দাম নিয়ে এক অসম প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।

এস এম/ ১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language