মার্কিন সামরিক ব্যয় বনাম মানবিক সংকট: জাতিসংঘ প্রধানের উদ্বেগ

ওয়াশিংটন, ১ মে – ইরান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক ব্যয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পেন্টাগনের শীর্ষ আর্থিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ওয়াশিংটন প্রায় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। তবে এই হিসাব নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর এক প্রতিবেদনে তিন জন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে যে, পেন্টাগনের উল্লিখিত এই ২৫ বিলিয়ন ডলারের অঙ্কটি প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই বিশাল খরচের বিপরীতে এক মানবিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী সংস্থার (ওসিএইচএ) প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে, তা দিয়ে বিশ্বের প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। ফ্লেচারের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা আপিলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ দিয়ে সারা বিশ্বের প্রায় ৯ কোটি মানুষের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
টম ফ্লেচার আক্ষেপ করে বলেন যে, সারা বিশ্বের কয়েক কোটি প্রাণ বাঁচানোর পরিকল্পনার চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে একটি যুদ্ধে। যদি এই ২৩ বিলিয়ন ডলার জাতিসংঘের তহবিলে থাকত, তবে চলতি বছরে ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে সংস্থাটি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করতে পারত। পেন্টাগনের এই যুদ্ধ ব্যয় এবং জাতিসংঘের মানবিক আহ্বানের এই তুলনামূলক চিত্রটি বর্তমানে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এস এম/ ১ মে ২০২৬









