জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে বাসের তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঢাকা, ২০ এপ্রিল – রাজধানীর সড়কগুলোতে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে গণপরিবহনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পর্যাপ্ত তেল না পাওয়া এবং পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে রাজধানীর প্রায় ২০ শতাংশ বাস সড়ক থেকে উধাও হয়ে গেছে। এতে করে অফিসফেরত যাত্রীসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। শাহবাগ মোড়ে বাসের অপেক্ষায় থাকা তাসলিমা স্বর্ণা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি বাসে উঠতে পারছেন না।
প্রতিটি বাসই অতিরিক্ত যাত্রীতে ঠাসা থাকছে। আগে যেখানে একই রুটের একাধিক বাস নিয়মিত চলাচল করত, এখন সেখানে দীর্ঘ সময় পর পর মাত্র একটি বাসের দেখা মিলছে। চালকরা বলছেন, জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে গিয়েই তাদের দিনের একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে। শুভযাত্রা পরিবহনের চালক বিল্লাল হোসেন জানান, প্রতিদিন তেল সংগ্রহ করতে পাম্পে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় চলে যায়। এই সময়ে অন্তত একটি অতিরিক্ত ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হতো। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম জানান, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার বাস চলাচল করে।
বর্তমানে শুধু ডিজেল সংকটের কারণে ২০ শতাংশ বাস কম নামছে। এতে যাত্রী চাপের তুলনায় বাসের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। রাইদা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মকবুল হোসেন পাটোয়ারী জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে আগে যেখানে একবারে ৫ হাজার টাকার তেল নেওয়া যেত, এখন পাম্পগুলো ৩ হাজার টাকার বেশি তেল দিতে চায় না। ফলে একটি বাসের ট্রিপ সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের পরামর্শ দিয়েছেন।
বুয়েটের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, পাম্পগুলোতে বাসের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে তিনি ইলেকট্রিক যানবাহন বা ইভি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তিনি আরও জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৩০ শতাংশ যানবাহন বিদ্যুতায়নের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখন থেকেই অবকাঠামো ও চার্জিং স্টেশন তৈরির কাজ শুরু করা জরুরি। এছাড়া সাময়িক সংকট নিরসনে বিভিন্ন সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত বাসগুলো সড়কে নামানোর আহ্বান জানান তিনি।
এস এম/ ২০ এপ্রিল ২০২৬









