উত্তর আমেরিকা

রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ে ছাড়ের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন, ১৮ এপ্রিল – রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় আরও এক মাসের ছাড় ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলো পুনরায় সমুদ্রপথে রুশ তেল সংগ্রহের সুযোগ পাবে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার থেকে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত জাহাজ থেকে রাশিয়ার তেল ও পরিশোধিত তেলজাত পণ্য ক্রয় করা যাবে।

ইতিপূর্বে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল যে তারা এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না। তবে বিশ্ববাজারে চলমান জ্বালানি সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপের বিষয়টি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে ট্রেজারি বিভাগের এই সুযোগ ব্যবহার করে দেশগুলো পেট্রোলিয়াম পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে। ১১ এপ্রিল আগের ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে এই সুযোগ দেওয়া হলো। তবে ইরান কিউবা ও উত্তর কোরিয়া সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলো বরাবরের মতোই এই ছাড়ের আওতামুক্ত থাকছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো এই সংকটে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওয়াশিংটনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন জ্বালানি সহজলভ্য করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট কয়েক দিন আগেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার ঘোষণা দিলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে অবস্থান পরিবর্তন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা জানানোয় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কিছুটা কমলেও সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে এই যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি ইতিহাসে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা রিপাবলিকান দলের জন্যও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি জি২০ সদস্য রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী সংস্থাগুলোও যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।

এস এম/ ১৮ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language