
ঢাকা, ১৮ নভেম্বর- একের পর এক মোটরসাইকেল আসছে গ্যারেজে। চালকদের বেশির ভাগই মাস্ক পরা। কিন্তু করোনা সচেতনতার বালাই নেই গ্যারেজ মালিক ও তাঁর কর্মীদের। কারো মুখেই মাস্ক নেই। এভাবেই প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা কাজ করে চলেছেন।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রহিম উদ্দিনের মোটরসাইকেল গ্যারেজে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলের চিত্র এটি। মুখে মাস্ক নেই কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে গ্যারেজের কর্মী শিশু ইসমাইল মুচকি হেসে জবাব দিল, ‘লাগব না, করোনা আমগো কাছে আইব না।’ গ্যারেজ মালিক এগিয়ে এসে বললেন, ‘ও ঠিক বলেনি। আমাদের সবারই মাস্ক আছে। তয় কাজের জন্য সব সময় ব্যবহার করি না। তবে এখন ব্যবহার করেই কাজ করব।’
গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ, তেজগাঁও ও রমনা থানার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে। অন্তত ৩০ জন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা সব সময় মাস্ক সঙ্গে রাখেন। তবে কখনো ব্যবহার করেন, কখনো করেন না। কেউ কেউ জানালেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামার কথা শুনে তাঁরা মাস্ক সঙ্গে রাখছেন। তবে সব সময় পরেন না।
মাস্ক পরতে অনীহা কেন—সেই প্রশ্নেরও জুতসই কোনো জবাব মেলেনি। কেউ কেউ অবশ্য জানান, মাস্ক পরলে হাঁসফাঁস লাগে। মনে হয় স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারেন না। তাই পকেটে রাখেন, কোথাও প্রশ্নের মুখে পড়লে যেন তাত্ক্ষণিকভাবে পরে নিতে পারেন।
গতকাল রাজধানীর শাহবাগ, তেজগাঁও ও রমনা থানার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে অনেকটা একই চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের বেশির ভাগ লোকজন মাস্ক সঙ্গে বা শার্ট-প্যান্টের পকেটে রেখেছেন, তবে ব্যবহারে অনীহা দেখা গেছে তাঁদের।
দুপুর ২টার দিকে তেজগাঁও এলাকার একটি গলির মুখে ঢুকতেই চোখে পড়ে মানুষের জটলা। চায়ের দোকান, ফুটপাত এমনকি বাজারেও একই চিত্র। সবাই মাস্ক ছাড়া। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে মুন্নাফ নামে একজন বললেন, ‘মাস্ক পকেটে আছে। কখনো কখনো মুখে দেই।’ সেখানে দাঁড়ানো আরো চার ব্যক্তিও একই ধরনের উত্তর দেন। মাস্কে অনীহা কেন—এমন প্রশ্নের যৌক্তিক কোনো উত্তর পাওয়া গেল না তাঁদের কাছ থেকে।
বিকেলের দিকে হাতিরঝিলে দেখা গেল নারী-পুরুষ ও শিশুর ভিড়। পরস্পর কাছাকাছি বসে বা দাঁড়িয়ে কথা বলছে। তাদের কারো কারো মুখে মাস্ক থাকলেও বড় অংশই মাস্কবিহীন আড্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। কথা বলে জানা গেল, তাদেরও সবার পকেটে মাস্ক আছে। কিন্তু সব সময় পরে না।
তবে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিধি মানা ও মাস্ক ব্যবহারে ব্যাপক প্রচার এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামার খবরে নগরের চিত্র পাল্টাচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোটরসাইকেলে মগবাজার, তেজগাঁও, রমনা ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিন আগের তুলনায় মানুষের মাস্ক ব্যবহার বেড়েছে। তবে ফুটপাতের দোকানিরা বরাবরের মতোই উদাসীন। নিউ মার্কেট, গাউছিয়ার কাপড়ের মার্কেটগুলো ঘুরেও অনেকটা একই চিত্র দেখা যায়। বেশির ভাগ দোকানি সঙ্গে মাস্ক রাখলেও ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। তবে ক্রেতাদের বেশির ভাগ মাস্ক পরা।
সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে কিছুদিন ধরে শীতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও নির্দেশনা সঠিকভাবে কার্যকর করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকার কঠোর হওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। ঘরের বাইরে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য গতকাল পর্যন্ত রাজধানীতে তেমন কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল হক গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘরের বাইরে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে ডিএমপি এখনো শুরু করেনি। শিগগিরই এ বিষয়ে অভিযান শুরু করা হবে।’
সূত্র: কালের কন্ঠ
আর/০৮:১৪/১৮ নভেম্বর









