টিকা নিয়ে চিকিৎসকের মৃত্যু, বিল গেটসকে নোটিস পাঠাল মুম্বাই হাইকোর্ট

মুম্বাই, ০৩ সেপ্টেম্বর – করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ‘কোভিশিল্ড’ভ্যাকসিন নেওয়ার পরই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে । এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ হিসাবে এক হাজার কোটি টাকা দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ বাবা। এই মামলায় উত্তর চেয়ে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এসআইআই) এবং মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের কাছে নোটিস পাঠাল মুম্বাই হাইকোর্ট।
শনিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও আনন্দবাজার।
পেশায় ডক্তার, দিলীপ লুনাওয়াত নামে ভারতের অওরঙ্গাবাদের এক বাসিন্দা এসআইআই এবং বিল গেটসের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে এই মামলা করেছেন। দিলীপের দাবি, কোভিশিল্ড টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। দিলীপের করা পিটিশনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ডিসিজিআই ভি জি সোমানি এবং এমস ডিরেক্টরেরও নাম রয়েছে।
দিলীপ আদালতকে জানিয়েছেন, তার মেয়ের নাম স্লেহাল, ৩৩ বছর বয়সী স্লেহাল এক জন ডাক্তার ছিলেন এবং ধামনগাঁওয়ের এসএমবিটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালে শিক্ষকতা করতেন। তিনি আরও জানান, ঐ ইনস্টিটিউটের সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা নিতে বলা হয়। এই জন্য তার মেয়েও টিকা নিতে বাধ্য হন। দিলীপ আরও দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে টিকাগুলি নিরাপদ। কিন্তু তার পরেও তার মেয়ে মারা গিয়েছেন। তাই তিনি এই মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।
শুক্রবার মুম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি এসভি গঙ্গাপুরওয়ালা এবং বিচারপতি মাধব জামদারের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। আইনজীবী অভিষেক মিশ্র এবং বিজয় কুরলে, দিলীপ লুনাওয়াতের পক্ষে মামলা লড়ছেন।
আইনজীবীদের মতে, স্লেহাল গত বছরের ২৮ জানুয়ারি কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ পান। এরপর থেকে এই চিকিৎসক শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ৬ ফেব্রুয়ারি, স্নেহাল গুরগাঁওয়ে একটি কর্মশালায় যোগদান করার সময় গুরুতর খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। তার মাথায় রক্ত জমাট বেঁধেছিল। তার প্লাটিলেটও কমতে শুরু করে। ১৪ দিন ধরে গুরগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি থাকা সত্ত্বেও স্নেহালের অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। এরপর তাকে অরঙ্গাবাদের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আট দিন পর ১ মার্চ মারা যান স্নেহাল।
আদালতে আইনজীবীরা আরও উল্লেখ করেছেন,বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক মানুষ অ্যাস্ট্রেজেনেকা এবং কোভিশিল্ড এর ডোজ গ্রহণ করার পরে একই উপসর্গের কারণে মারা গেছে তবুও কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। আর তাই কেন্দ্রীয় সরকার, ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেলও মেয়েটির মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৭ নভেম্বর।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২









