দক্ষিণ এশিয়া

চীনের আগ্রাসন রুখতে প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ভারত

নয়া দিল্লী, ১৪ মে – ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য হুমকির প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশলে আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো প্যাসিফিক নীতির ওপর ভিত্তি করে দেশটির পূর্ব উপকূল এখন নিরাপত্তার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এই কৌশলগত অঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু হয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এটি সরাসরি বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক বার্তাগুলোতে ভারতের পূর্ব উপকূলে কৌশলগত চাপ তৈরির ইঙ্গিত রয়েছে।

তবে ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হলো মায়ানমারের মাধ্যমে চীনের ইউনান প্রদেশকে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের ফলে এই কাজ কিছুটা স্থবির হলেও ভারত এই সময়টিকে নিজের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। নতুন এই নিরাপত্তা বলয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে ভারতের একটি অজেয় রণতরী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ মালাক্কা প্রণালির সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় এই দ্বীপপুঞ্জ ভারতের সামুদ্রিক আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির ওপর ভারতের যেমন নির্ভরতা রয়েছে, মালাক্কা প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ভারতের জন্য ঠিক তেমনই এক কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব এনে দেবে। ভারতের এই নতুন কৌশলে সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর বাইরেও কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বন্দর উন্নয়ন ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সংযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

ভবিষ্যতের সামুদ্রিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও মরিশাসের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উপকূলীয় নজরদারি বাড়াতে ভারত তার সাগর ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

এস এম/ ১৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language