মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ কাটাতে বড় চাল সৌদির! ইরানের সাথে ঐতিহাসিক ‘নন-অ্যাগ্রেশন’ চুক্তির পথে রিয়াদ?

রিয়াদ, ১৫ মে – মধ্যপ্রাচ্যের চিরশত্রু দেশগুলোর মধ্যে কি তবে বন্ধুত্বের নতুন সূর্য উদয় হতে যাচ্ছে? ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর এবার পুরো অঞ্চলের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে এক অবিশ্বাস্য পরিকল্পনার কথা ভাবছে সৌদি আরব। ইরানসহ প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গে একটি ‘সমঝোতামূলক চুক্তি’ করার লক্ষ্যে গোপনে কাজ শুরু করেছে রিয়াদ। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে এক দেশ অন্য দেশে হামলা না চালানোর আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেবে।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে।

পশ্চিমী কূটনীতিকদের মতে, সৌদি আরব ১৯৭০-এর দশকের ঐতিহাসিক ‘হেলসিংকি প্রক্রিয়ার’ আদলে এই চুক্তির পরিকল্পনা করছে। উল্লেখ্য, ওই প্রক্রিয়াই একসময় ইউরোপে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিল। এখন সেই একই ফর্মুলা ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে চায় সৌদি রাজপরিবার।

সৌদি আরবের এই আগ্রহের পেছনে কাজ করছে বাস্তববাদী ভূ-রাজনীতি। এক আরব কূটনীতিকের ভাষায়— “ভৌগোলিকভাবে ইরান সবসময় সৌদির পাশেই থাকবে।” তাই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের বদলে একটি নিরাপদ প্রতিবেশী বলয় তৈরি করাকেই এখন প্রাধান্য দিচ্ছে রিয়াদ। ইউরোপীয় দেশগুলোও সৌদির এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছে। তারা মনে করছে, ইরানকে হামলার হাত থেকে রক্ষার গ্যারান্টি দেওয়ার এটিই হবে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

এই চুক্তির সফলতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে বড় দুটি শঙ্কা কাজ করছে:

১. ইসরায়েল সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের দ্বন্দ্বের অন্যতম প্রধান কারণ ইসরায়েল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও ইসরায়েলকে এক টেবিলে বসানো প্রায় অসম্ভব। আবার ইসরায়েলকে বাইরে রেখে এমন চুক্তির স্থায়ীত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

২. আমিরাতের অবস্থান: সংযুক্ত আরব আমিরাত এই জোটে শেষ পর্যন্ত যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

অধিকাংশ আরব ও মুসলিম দেশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা মনে করছে, যদি বড় শক্তিগুলো একে অপরের ওপর হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতিতে সই করে, তবে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।

এনএন/ ১৫ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language