জ্বালানি সংকটে বড় স্বস্তি! ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ঐতিহাসিক চুক্তি বাংলাদেশের

ঢাকা, ১৫ মে – বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের অস্থির বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বাংলাদেশের জন্য এল এক দারুণ সুখবর। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে এখন থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি এলএনজি (LNG) ও এলপিজি (LPG)-সহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য আমদানির দুয়ার খুলে গেল।
ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগে (DOE) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়।
এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ কেবল জ্বালানি কিনবে না, বরং প্রযুক্তির দিক থেকেও সমৃদ্ধ হবে।
সমঝোতা স্মারকের মূল দিকগুলো হলো:
- সাশ্রয়ী আমদানি: বাজারমূল্যের চেয়ে সুবিধাজনক দরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি ও এলপিজি আমদানির সুযোগ।
- উৎস বহুমুখীকরণ: কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না থেকে জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা।
- প্রযুক্তি বিনিময়: তেল, গ্যাস, ভূ-তাপীয় ও জৈব জ্বালানি খাতে উন্নত মার্কিন প্রযুক্তি ও যৌথ গবেষণার সুযোগ।
- সক্ষমতা বৃদ্ধি: বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জনবলকে দক্ষ করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই সমঝোতাকে দুই দেশের সম্পর্কের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এই যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী। এমন পরিস্থিতিতে দেশের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে বিকল্প এবং সাশ্রয়ী উৎসের সন্ধান করছিল সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই সরাসরি চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এনএন/ ১৫ মে ২০২৬









