বলিউড

অভিনেত্রী জয়া বচ্চনের জন্মদিন আজ

মুম্বাই, ০৯ এপ্রিল – ভারতীয় বাঙালি অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ জয়া বচ্চনের জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৪৮ সালের ৯ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের জবলপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য। ২০০৪ সাল থেকে চার মেয়াদে এই পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন তিনি। হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ছিলেন তিনি।

কর্মজীবনে তিনি নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন, তার মধ্যে তিনটি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে, তিনটি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে। তিনি অভিনয় বিভাগে নারীদের মধ্যে রানী মুখার্জীর সাথে যৌথভাবে সর্বাধিক পুরস্কার বিজয়ী। তিনি ২০০৭ সালে ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯২ সালে ভারত সরকার তাকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রীতে ভূষিত করে।

কিশোরী বয়সে সত্যজিৎ রায়ের মহানগর (১৯৬৩) চলচ্চিত্র দিয়ে অভিষেকের পর প্রাপ্ত বয়স্ক চরিত্রে তার প্রথম চলচ্চিত্র ছিল হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের গুড্ডি (১৯৭১)। এরপর তিনি হৃষিকেশের পরিচালনায় আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি উপহার (১৯৭১), কোশিশ (১৯৭২) ও কোরা কাগজ (১৯৭৪) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি তার স্বামী অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে জঞ্জির (১৯৭৩), অভিমান (১৯৭৩), চুপকে চুপকে (১৯৭৫), মিলি (১৯৭৫) ও শোলে (১৯৭৫) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

তিনি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের স্ত্রী ও অভিষেক বচ্চন ও শ্বেতা নন্দার মা। বিয়ের পর তাকে চলচ্চিত্রে কম অভিনয় করতে দেখা যায়। ১৯৮১ সালে সিলসিলা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তিনি অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন।

এরপর তিনি গোবিন্দ নিহলানির হাজার চৌরাশি কী মা চলচ্চিত্র দিয়ে অভিনয়ে ফিরে আসেন। তখন থেকে তিনি কয়েকটি সমাদৃত ও ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এর মধ্যে রয়েছে ফিজা (২০০০), কভি খুশি কভি গম… (২০০১), ও কাল হো না হো (২০০৩), যার জন্য তিনি সমাদৃত হন এবং কয়েকটি পুরস্কার ও মনোনয়ন লাভ করেন।

জয়া বচ্চনের পিতা ছিলেন খ্যাতনামা সাংবাদিক তরুণকুমার ভাদুড়ী ও মায়ের নাম ইন্দিরা ভাদুড়ী। তরুণকুমার ভাদুড়ীর রচিত জয়া ভোপালের সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৬ সালে সারা ভারতের সেরা এনসিসি ক্যাডেট সম্মানে সম্মানিত হন জয়া। জয়া ১৯৭৩ সালের ৩ জুন অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

জয়া ১৫ বছর বয়সে সত্যজিৎ রায়ের বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র মহানগর (১৯৬৩) চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। এতে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করেছিলেন অনিল চট্টোপাধ্যায় ও মাধবী মুখোপাধ্যায়। এরপর তিনি আরও দুটি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, সেগুলো হল ১৩ মিনিট দৈর্ঘ্যের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সুমন এবং ১৯৭১ সালে ধন্যি মেয়ে চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারের ভাতৃবধূ চরিত্রে।

২০১১ সালে তিনি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র মেহেরজান-এ নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। এটি ১৯৭১ বাংলাদেশে গণহত্যার সময়ে বাংলাদেশী তরুণী মেহের ও একজন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার ভালোবাসার গল্প, যেখানে সেই কর্মকর্তাটি যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পাকিস্তানি সেনাদলের নিকট থেকে মেহেরকে রক্ষা করে। ২০১৬ সালে কারিনা কাপুর ও অর্জুন কাপুর অভিনীত কি অ্যান্ড কা (২০১৬) চলচ্চিত্রে তিনি ও অমিতাভ বচ্চন বিশেষ দৃশ্যে অভিনয় করেন।

জয়া ২০০৪ সালে প্রথম সমাজবাদী পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় এবং ২০০৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত রাজ্যসভায় উত্তর প্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০৬ সালের জুন মাসে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন, ২০১০ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকেন। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অমর সিংকে সমাজবাদী পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হলে তিনি তার মেয়াদ পূর্ণ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন এবং বলেন যে কেবল মুলায়েল সিং তাকে অব্যহতির কথা বললেই তিনি অব্যহতি দিবেন। ২০১২ সালে তিনি তৃতীয় মেয়াদে এবং ২০১৮ সালে চতুর্থ মেয়াদে পুননির্বাচিত হন।

এম এস, ০৯ এপ্রিল


Back to top button
🌐 Read in Your Language