যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনার তাগিদ সিপিডির

ঢাকা, ৫ জুন – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বিদ্যমান শুল্কসংক্রান্ত বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে,
জোরপূর্বক শ্রম নিরসনের অজুহাতে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলে সমস্যার সমাধান হবে না। এতে উল্টো শ্রমের ওপর চাপ এবং জোরপূর্বক শ্রমের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় বা ইউএসটিআর বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে।
জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ব্যর্থতার অভিযোগে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাজেটকে সামনে রেখে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি উল্লেখ করেন যে অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করার কারণে বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে সক্ষম হয় না। দেশের ইটভাটা বা বিভিন্ন খাতে অনেক সময় পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনে শিশুরা কাজে সম্পৃক্ত হয়।
এ অবস্থায় শিশুদের কল্যাণে কোনো সহায়তা তহবিল না দিয়ে উল্টো রপ্তানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ তৈরি হয়। মোস্তাফিজুর রহমান আরও জানান যে ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ওপর গড় ১৫ শতাংশ শুল্ক বহাল ছিল।
এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১৯ শতাংশ যোগ হয়ে শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে। নতুন করে প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হলে মোট শুল্ক হার ৪৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এত উচ্চ শুল্ক হারের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন শুল্ক চুক্তিটি নিয়ে পুনরায় নতুন করে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এস এম/ ৫ জুন ২০২৬









