ঢালিউড

প‌পির হঠাৎ সাম‌নে আসা ষড়যন্ত্রের অংশ : জা‌য়েদ খান

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি – অনেকদিন ধরেই নিখোঁজ ছিল অভিনেত্রী পপি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রীর হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ায় চারদিকে হইচই পরে গেলেও ঠিক আশার খবর মেলেনি। এক রকম রহস্যের জালে হারিয়ে যায় জনপ্রিয় এই তারকা। সবাই যখন আশা ছেড়ে দিয়েছেন, ঠিক তখন নিজেই হাজির হলেন। ২৬ জানুয়ারি এক ভিডিও বার্তা দিয়ে সামনে এলেন তিনি। জানালেন বিএফডিসি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নিয়ে তার একবুক অভিমানের কথা।

যেখানে পরোক্ষ ইঙ্গিতে চলে আসে সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিষয়ও। এর একদিন পরই আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন জায়েদ। এফডিসিতে সাংবাদিকদের সামনেই বলেন পপির এমন সব কথা তিনি উপভোগ করছেন।

তবে এই চিত্রনায়িকার হঠাৎ সামনে আসার বিষয়টি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই মনে করেন তিনি। বলেন, ‌‘শেক্সপিয়ার একটা কথা বলে গেছেন, ‘মানুষের সঙ্গে মারামারি করে শত্রু বাড়ানোর দরকার নাই। কিছু ভালো কাজ করবে, শক্র এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার যদি এত দোষ থাকে তবে সেটা নির্বাচনের দুই-চার বছর আগে বের হওয়া উচিত ছিল। নির্বাচনের একদিন আগে বের হচ্ছে কেন? তারমানে আপনি আমার বিরুদ্ধে কাউকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।’

পপির অভিযোগ প্রসঙ্গে এই শিল্পী নেতা বলেন, ‘দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, তার (পপি) সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে একের অধিক স্টেজ শো করেছি, একই প্যানেলে নির্বাচন করেছি। তার মতানৈক্য বা মতাদর্শ থাকতেই পারে। সেটা নিজেদের ফোরামে বলাই ভালো। তাকে খুঁজেই পাচ্ছি না। তার মোবাইল বন্ধ। হঠাৎ করে একদিন আগে তাকে দিয়ে কিছু বলানো হচ্ছে। যাক বলেছে। আপনারা তো বলেন আমি আলোচিত মানুষ। হয়তো এ কারণে বলেছে। তার আক্ষেপ-অভিযোগ থাকলে সামনে এসে বললেই ভালো হতো। একটা কথা মনে রাখবেন, ‘যে গাছে ফল হয় বেশি সেখানে ঢিলও পড়ে বেশি। আর অন্য কেউ তো বলেনি, পপি বলেছেন। আমি এনজয় করছি।’

গতকাল বুধবার দুপুরে হঠাৎ করেই ফেসবুক ও ইউটিউবে পপির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। অনুমান করা যায়, অন্তর্ধানে থেকেই ভিডিওটি পপি নিজ বাসা থেকে প্রকাশ করেছেন।

পপি ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমার মতো শিল্পী যে তিন তিনবার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে, এই আমার সদস্য পদ বাতিলের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতদিন ধরে কাজ করার পর এটা একজন শিল্পীর জন্য কতটুকু অপমানের আমি বুঝতে পারি। আমার মতো শিল্পীরা যারা ভিকটিম হয়েছেন, ১৮৪ জন শিল্পী যারা আছেন, আমি তাদের কষ্টটাও বুঝতে পারি। তারাও আমার কষ্টটা বুঝতে পারেন। এই নোংরামির জন্য, আমার মানসম্মানের ভয় ছিল, আমার জানের ভয় ছিল। সবকিছু মিলে আমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।’

নিজেকে ভিকটিম দাবি করে পপি বলেন, ‘বর্তমান সমিতির একটিমাত্র ব্যক্তির কারণে, তার পলিটিক্স, তার নোংরামি এবং অনেক রকমের অপকর্মে অসহযোগিতা করার কারণে আমাকে বারবার অপমানিত হতে হয়েছে। শুধু আমি না, রিয়াজ, ফেরদৌস, পূর্ণিমা, আমাদের সকলকে ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের কাঁধে বন্দুক রেখে সে এই চেয়ারটিতে বসেছে এবং বিভিন্ন রকম অপকর্ম করার চেষ্টা করেছে, যেখানে আমি বা আমরা সায় দিইনি। যার কারণে আজকে আমি ভিকটিম। আমাকে বারবার অপমানিত হতে হয়েছে।’

ক্যামেরার সামনে ফেরার আশাবাদ জানান তিনি। বলেন, ‘আমার সদস্য পদ বাতিলের চিঠিটি এখনো আছে। আমি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি আপনাদের কাছ থেকে, এই নোংরা পরিবেশ থেকে। যদি পরিবেশ কখনও ভালো হয় তবে ফিরবো। এই নোংরা মানুষগুলো যদি সরে যায় তখনই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করবো।’

উল্লেখ্য, আগামীকাল ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ নির্বাচন। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে মিশা সওদাগর-জায়েদ খান ও ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুন প্যানেল।

এন এইচ, ২৭ জানুয়ারি


Back to top button
🌐 Read in Your Language