অপরাধ

সাবেক কাউন্সিলর রাজীবের ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

ঢাকা, ৩০ মে – রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব প্রায় ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। প্রায় সাড়ে চার বছরে চারটি ব্যাংকে তার পাঁচটি অ্যাকাউন্টে সাড়ে ২২ কোটি টাকারও বেশি জমা পড়েছিল। তার বিরুদ্ধে হওয়া অর্থ পাচার মামলার তদন্তে নেমে এসব তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি।

গত ১৬ মে রাজীব ও তার পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। রাজীবের এক কোটি ৪৬ লাখ ৭৭ হাজার ১৯২ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তবে সেগুলোর দালিলিক প্রমাণ এখনও পায়নি সিআইডি।

রাজীব ছাড়া অভিযুক্ত অন্য পাঁচজন হলেন- শাহ আলম হোসেন জীবন, কামাল হোসেন, নুর মোহাম্মদ, রুহুল আমিন ও তামজীদ খান হৃদয়। তাদের মধ্যে রাজীব ও তামজীদ খান হৃদয় কারাগারে। চারজন পলাতক।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। পরে পুলিশও অভিযানে নামে। যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, এনামুল হক আরমান, খালেদ মাহমুদ ভুইয়া, গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমসহ অনেক রাঘববোয়াল ধরা পড়েন।

অভিযানে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১৯ অক্টোবর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন রাজীব। তিনি তখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে তাকে বহিস্কার করা হয়। ২০ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় দুটি মামলা করে র‌্যাব। একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং অপরটি অস্ত্র আইনে।

রাজীব কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর কয়েক বছরে প্রচুর অর্থ-সম্পদের মালিক হন। এর আগে তার দৃশ্যমান কোনো পেশা ছিল না। পরে তার আয়ের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক ও সিআইডি। অস্ত্র ও মাদক ছাড়াও পরে তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা হয়। একটি মামলা করে দুদক এবং অপরটি করে সিআইডি।

সিআইডির মামলার এজাহারে বলা হয়, রাজীব অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া জমি দখল, মাদক ব্যবসা, গরু হাটের টেন্ডারবাজি ও অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাড়ি, জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচা, নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠান খুলে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করেছেন।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭-১৮ করবর্ষে রাজীব তার আয়কর নথিতে মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেন ৮৩ লাখ চার হাজার ৬০০ টাকা। তার ১৯ কোটি ৯১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে জমা হওয়া টাকার মধ্যে সর্বশেষ ব্যাংকে ছিল এক কোটি ৪৬ লাখ ৭৭ হাজার ১৯২ টাকা। এই টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রাজীবের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের পাশে সাড়ে সাত কাঠা একটি প্লট দখলের অভিযোগ থাকলেও সেটি তার নামে দলিল করা হয়নি। অন্যের নামে রয়েছে ওই জমি। এ ছাড়া একটি প্রাইভেটকার তার পরিবারের লোকজন ব্যবহার করলেও সেটির মালিকানা অন্যের নামে।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ৩০ মে


Back to top button
🌐 Read in Your Language