অপরাধ

মোহাম্মদপুরের আতঙ্ক ‘আকাশ গ্যাং’ আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার

ঢাকা, ৩ জুন – রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাখা দুর্ধর্ষ ‘আকাশ বাহিনী’র মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (৩ জুন) ঢাকার অদূরে আশুলিয়া এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— গ্যাং লিডার আকাশ, তার অন্যতম প্রধান সহযোগী রবিন এবং আরাফাত।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ আসে যে, মোহাম্মদপুরের একাধিক বড় ছিনতাইয়ের ঘটনার পর এই চক্রটি আশুলিয়ায় আত্মগোপন করে আছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আক্কেল আলী ও এসআই নাজমুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল আজ আশুলিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

এডিসি জুয়েল রানা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে জানা গেছে যে আকাশের নেতৃত্বেই এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর এবং এর সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় রাজত্ব চালিয়ে আসছিল।

পুলিশের তদন্তে এই চক্রের সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি রোমহর্ষক ও বড় ধরনের ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

১. বিকাশ এজেন্টে হামলা: সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় এই আকাশ গ্যাং একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানের কর্মচারী হৃদয়কে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত করে। এরপর তার কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা, ১ লাখ টাকা মূল্যের একটি দামী স্যামসাং মোবাইল ফোনসহ মোট তিনটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

২. কুরিয়ারের গাড়ি আটক: এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন পর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি থামিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৯৫ হাজার টাকা এবং দুটি দামী মোবাইল ফোন ছিনতাই করে তারা। এই ঘটনাতেও এই চক্রের সরাসরি জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

৩. নদী তীরের ওয়াকওয়েতে আতঙ্ক: শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য তৈরি ওয়াকওয়ে এলাকাগুলোতেও এই আকাশ ও তার সহযোগীরা নিয়মিত সাধারণ পথচারী ও যুগলদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোবাইল-টাকা ছিনতাই করত।

থানায় এনে রেকর্ড যাচাই-বাছাই করার পর পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তার আকাশ একজন পেশাদার ও তালিকাভুক্ত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন থানায় ৪টি ছিনতাই মামলা, ২টি মারামারি ও গুরুতর জখমের মামলা এবং ১টি মাদক মামলাসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে, তার সহযোগী রবিনের বিরুদ্ধেও আগে থেকে একটি বড় ধরনের ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া এই তিন অপরাধীর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় নতুন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

এনএন/ ৩ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language