মতিঝিলে প্রকাশ্য দিবালোকে ফিল্মি কায়দায় গুলি! ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই করে বাইকে পালালো ৬ অস্ত্রধারী!

ঢাকা, ৭ জুন- ব্যস্ততম রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে ভরদুপুরে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনা। জনাকীর্ণ জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখার সামনে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে আনুমানিক ১৭ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেছে ৬ সশস্ত্র ছিনতাইকারী।
আজ রোববার (৭ জুন) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মতিঝিলের বাণিজ্যিক এলাকায় এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মো. লোকমান (৪৫) নামের ওই ব্যক্তি ব্যাংকের সামনে অবস্থান করছিলেন। আচমকাই তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৬ জন অস্ত্রধারী যুবক ব্যাংকের সামনে এসে লোকমানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। গুলি লোকমানের হাত ও পায়ে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

রক্তাক্ত অবস্থায় লোকমান কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার হাতে থাকা ১৭ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগটি হ্যাঁচকা টানে ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর চোখের পলকে বাইকের গতি বাড়িয়ে জনসমুদ্রের মাঝে মিলিয়ে যায় তারা।
ছিনতাইকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত ৪৫ বছর বয়সী মো. লোকমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ লোকমানের সঠিক পেশা বা বিস্তারিত পরিচয় এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মতিঝিল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম। অপরাধস্থল থেকে পুলিশ ইতিমধ্যে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।
মতিঝিল থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, “প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি ছিনতাই। ব্যাংক থেকে এতো বিপুল পরিমাণ টাকা তোলার খবর কীভাবে ওই অপরাধী চক্রের কাছে আগে থেকেই পৌঁছালো, তা আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি।”
অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য জনতা ব্যাংকের সামনের এবং আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে পুলিশ। পুরো এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা তল্লাশি ও ব্লক রেইড চলছে।
দিনের আলোয় মতিঝিলের মতো হাই-সিকিউরিটি জোন এবং ব্যাংকের সামনে এমন প্রকাশ্যে গুলি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। টাকা তোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কোনো তথ্য পাচারকারী চক্র জড়িত কি না, সেই প্রশ্নও এখন জোরালো হচ্ছে।
এনএন/ ৭ জুন ২০২৬









