জোয়ারের পানিতে হাতিয়ায় নিম্নাঞ্চল ফের প্লাবিত

নোয়াখালী, ২৭ মে– নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবের পর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে পুনরায় পাঁচ-ছয় ফুট জোয়ারে আবারও প্লাবিত হয় বিচ্ছিন্ন এ দ্বীপটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন।
পানিতে তলিয়ে গেছে অন্তত ২০টি গ্রাম, এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে, উঁচু জায়গা, বেড়িবাঁধ ও বড় নৌকা এবং ট্রলারে। সুখচর ইউনিয়নে জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে লিমা আক্তার নামে সাত বছরের এক শিশু, যার সন্ধান বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এদিকে উপজেলার নিঝুমদ্বীপের বন থেকে অন্তত চার হাজার হরিণ বনের পাশের উঁচু জায়গা ও লোকালয়ে চলে এসেছে।
জানা গেছে, গত দুদিনের অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, গৃহপালিত পশু, পুকুরের মাছ ও জমির ফসল। বেড়িবাঁধগুলো মেরামত না করায় ইয়াসের আঘাতে এত ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর জোয়ারের উচ্চতা গত দুদিনের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা। গত বুধবারের মতো জোয়ারে গতকালও উপজেলার হরণী, চানন্দী, সুখচর, নলচিরা, চরঈশ্বর ও নিঝুমদ্বীপের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।
চরঈশ্বর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম মহব্বত জানান, তার ওয়ার্ডের মাইজচা মার্কেট এলাকার বেড়ির বাইরে বসবাস করা শতাধিক পরিবার অনাহারে-অর্ধাহারে জীবনযাপন করছে। এ পরিবারগুলো দুদিন ধরে রান্না করতে পারছে না। অনেকে খাটের ওপর চুলা জ্বালিয়ে রান্নার চেষ্টা করছে। ১২ ঘণ্টা পরপর আসা জোয়ারে তাদের সর্বস্ব হারিয়ে এখন অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেন জানান, সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
সূত্র: আমাদের সময়
এম এন / ২৭ মে









