নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশাল মিছিল, দেখে ‘গা-ঢাকা’ দিল সুধারাম থানার পুলিশ!

নোয়াখালী, ৬ জুন – নিষিদ্ধ ঘোষণার পর এই প্রথম এত বড় জমায়েত! নোয়াখালী সদরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে পুলিশের ভূমিকা। ছাত্রলীগের বিশাল উপস্থিতি দেখে সুধারাম থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ‘সরে পড়েছেন’ বা গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর নোয়াখালী সদরের নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় এলাকা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের ‘সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে এই ঝটিকা মিছিলের ডাক দেয় ছাত্রলীগ। জুমার নামাজ শেষ হতেই সদর উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রায় হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থক আকস্মিকভাবে বাঁধের হাট বাজারে জড়ো হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলটি যখন শুরু হয়, তখন সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দেওয়ার একটি দুর্বল চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই মিছিলের আকার এবং নেতাকর্মীদের হুঙ্কার ও সংখ্যা এত বেড়ে যায় যে, পুলিশের বাধা পাত্তাই পায়নি। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সামনে থেকে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সরে যান এবং নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন।
উত্তাল এই বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি বর্তমান প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় ও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হবো না। আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
পরবর্তীতে কর্মসূচির বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দাবি করেন, দেশে বর্তমানে চরম সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করা তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্বের জায়গা থেকেই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন।
হাজারো নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীর সামনে পুলিশের এমন পিছু হটার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামের কাছে। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমের কাছে একপ্রকার অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।
ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আগে থেকেই পুলিশের একটি ছয় সদস্যের দল নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না। আমরা মিছিলের শুরুতে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পরে তাদের উপস্থিতি ও সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সেখান থেকে সরে পড়েন।”
নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের বিশাল মিছিলের সামনে মাত্র ৬ জন পুলিশ সদস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে পুলিশের এভাবে পিছু হটার ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে এখন ব্যাপক সমালোচনা চলছে। প্রশাসনের এমন ‘অসহায়’ ভূমিকা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এনএন/ ৬ জুন ২০২৬









