পূর্ব লাদাখের ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় ভারী সামরিক বিমান অবতরণ করিয়ে রেকর্ড ভারতের

দিল্লি,০৮ নভেম্বর-পূর্ব লাদাখের দুর্গম নিয়োমা বিমানঘাঁটিতে রেকর্ড উচ্চতায় ভারী সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উঁচুতে আইএল-৭৬এমডি মডেলের বিশাল বিমানটি অবতরণ করিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশটি।
এর ফলে চীন সীমান্তবর্তী প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর দাবি, এ ধরনের বিমানের ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবতরণের রেকর্ড। এই সাফল্যের ফলে দুর্গম হিমালয় সীমান্তে সেনা, সামরিক যান ও প্রয়োজনীয় রসদ দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ল ভারতের।
গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিমানটি নিয়োমা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। পরদিন শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় ভারতীয় বিমানবাহিনী। তাদের পোস্টে লেখা হয়, ‘১৩ হাজার ৬২৯ ফুট। বিমান চলাচলের ইতিহাসে নতুন উচ্চতা।’
বিমানবাহিনী আরও জানায়, এই অবতরণ তাদের বিমানের সক্ষমতার পাশাপাশি পাইলট ও ক্রুদের দক্ষতা, নিখুঁত পরিচালনা এবং পেশাদারত্বের প্রমাণ। তাদের মতে, এই অর্জন ভারতের কৌশলগত আকাশপথে পরিবহন সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
গুরুত্বপূর্ণ নিয়োমা বিমানঘাঁটি পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত উত্তেজনার কারণে এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। ডেমচক এলাকা ও প্যাংগং সো হ্রদের দক্ষিণ তীরের কাছাকাছি হওয়ায় সামরিক দিক থেকেও অঞ্চলটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের লেহ ও থোইস বিমানঘাঁটি থেকে সীমান্তে পৌঁছাতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। নিয়োমা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সেখান থেকে দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো সম্ভব হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সময়ও কমবে।
ঘাঁটিটির প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়ে যুদ্ধবিমান ও ভারী পরিবহন বিমান ওঠানামার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে এটি পুরোপুরি চালু হয়। এর মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়া এবং দ্রুত রসদ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
এত উঁচুতে বিমান অবতরণ কঠিন কেন
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় ভারী পরিবহন বিমান অবতরণ করানো বেশ কঠিন। কারণ, উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়। এতে বিমানের ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও ডানা থেকে তৈরি হওয়া উত্তোলন শক্তি কমে যায়। ফলে বিমান ওঠানো, নামানো এবং ভারী মালামাল বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চার ইঞ্জিনের রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি আইএল-৭৬এমডি বিমান সফলভাবে অবতরণ করানো ভারতীয় পাইলটদের দক্ষতা ও পেশাদারত্বের বড় প্রমাণ।
রাশিয়ায় তৈরি ‘গজরাজ’ নামেও পরিচিত বিমানটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভারী পরিবহন বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি দীর্ঘ দূরত্বে সেনাসদস্য, সামরিক যান, ভারী সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় রসদ পরিবহনে সক্ষম। এর আগে থেকেই লেহ ও থোইস বিমানঘাঁটিতে বিমানটি চলাচল করে আসছে।
তবে এই অর্জনকে শুধু বিমান চলাচলের রেকর্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হিমালয় সীমান্তে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সচল রাখা এবং যেকোনো নিরাপত্তা হুমকি দ্রুত মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় সামরিক অগ্রগতি।
এস এম/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬







