এশিয়া

জাপানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে আহত ২২, আরও শক্তিশালী কম্পনের আশঙ্কায় সতর্কতা

জাপানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প

টোকিও,০৮ নভেম্বর-জাপানের মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (৮ নভেম্বর) ভোরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর আগামী এক সপ্তাহের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়।

জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এর মাত্রা ৫ দশমিক ৫ বলে জানিয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর আরও কয়েকটি ছোট কম্পন অনুভূত হয়েছে।

স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল শিজুওকা প্রিফেকচারে, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে। সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয় আইচি প্রিফেকচারে। হামামাতসু শহর, কিয়োটো, নারা, ইয়ামানাশি ও গিফুসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে। তবে টোকিওতে কম্পন অনুভূত হয়নি।

জাপানের টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে বিভিন্ন দোকানের ভাঙা জানালা এবং রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা কাচের টুকরা দেখা গেছে। একটি বইয়ের দোকানে তাক থেকে বই পড়ে মেঝেতে স্তূপ হয়ে যায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজন আতঙ্কে ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে যান।

ভূমিকম্পের পর আগামী এক সপ্তাহ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আয়াতাকা এবিতা সাংবাদিকদের বলেন, ভূমিধস, পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়া এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত নানকাই ট্রফ প্লেট এলাকায় অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন শনাক্ত হয়নি। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এ এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপানে কর্তৃপক্ষ প্রায়ই বাসিন্দাদের জরুরি প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে বোতলজাত পানি, খাবার ও ব্যাটারি মজুত রাখা এবং ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করা।

এস এম/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language