কক্সবাজার

অনুমোদিত নকশা ছাড়া রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে ডেরা রিসোর্টকে ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

ডেরা রিসোর্ট

কক্সবাজার,০৮ নভেম্বর- কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এবার আলোচনায় এসেছে ডেরা রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণ ও ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে রিসোর্টটির মালিকপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। ডেরা রিসোর্টের মালিক শেখ সাদী। তিনি এশিউর গ্রুপের চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের হাতে আসা কউকের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট জারি করা এক নোটিশে শেখ সাদীকে স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, এর আগে ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদিত নকশা জমা দেওয়া হয়নি। বরং ভবনটির ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আবারও তদন্ত ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে স্থাপনাটি অননুমোদিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।

এ অবস্থায় নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে অননুমোদিত স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় কউক নিজ উদ্যোগে স্থাপনাটি অপসারণ করবে এবং এর যাবতীয় খরচ সংশ্লিষ্ট মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

সম্প্রতি ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন রিসোর্টের অনুমোদন, নির্মাণবিধি ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অননুমোদিত স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে একের পর এক রিসোর্ট নিয়ে এমন অভিযোগ সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও তদারকি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুধু নোটিশ জারি নয়, অনিয়মের অভিযোগে বাস্তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চান সচেতন মহল।

টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটন এলাকার প্রতিটি রিসোর্টের নির্মাণ অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মেরিন ড্রাইভে অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা নগরায়ণ, অবৈধ স্থাপনা ও রিসোর্টের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে কোনো ব্যবসায়ী, নাগরিক কিংবা স্থানীয় বা বাইরের কেউ যেন অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কউক। একই সঙ্গে কোনো পর্যটক যাতে ভোগান্তি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে অনেক অবৈধ স্থাপনা ও রিসোর্ট ভেঙে ফেলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি চূড়ান্ত নোটিশও দেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা নোটিশের নির্দেশনা মানেননি, তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি যারা অবৈধভাবে রিসোর্ট নির্মাণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে।

এস এম/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language